বাংলাদেশে উন্নয়ন ও সামাজিক খাতে আন্তর্জাতিক অনুদান কমে আসছে। এই পরিস্থিতিকে শুধু বাধা নয়, বরং দেশীয় সম্পদ থেকে অর্থ জোগানের সুযোগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও বক্তারা। তাঁদের মতে, দেশের অগ্রগতি ও জনগণের সেবা নিশ্চিতে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—দেশের ভেতর থেকেই স্থায়ী অর্থের উৎস তৈরি করা।
এক আলোচনায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি অনুদান নানা কর্মসূচির বড় অংশ বহন করলেও সময়ের পরিবর্তনে সেই সহায়তা কমছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের পথে এগিয়ে যাওয়ায় বৈদেশিক অনুদানের প্রবাহও স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পাচ্ছে। তাই এখনই প্রয়োজন নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করা।
বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, রোগবালাইয়ের বিস্তার, স্বাস্থ্যব্যবস্থার চাহিদা বৃদ্ধি—এসব মোকাবেলায় কেবল বাইরের সহায়তার ওপর নির্ভর করা যাবে না। বরং করব্যবস্থা উন্নয়ন, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি, বাজেট ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, অপচয় রোধ, এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেই দেশীয় অর্থসংস্থানকে শক্তিশালী করতে হবে।
বক্তারা আরও জানান, নিজস্ব সম্পদ থেকে অর্থ জোগানের ব্যবস্থা সমৃদ্ধ হলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। এতে বিদেশি সহায়তা কমে গেলেও দেশের উন্নয়নধারা থেমে থাকবে না।
সবশেষে আলোচকরা জোর দিয়ে বলেন, এখনই সময় জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা এবং সাধারণ জনগণ—সবাইকে এই পরিবর্তনের অংশ হতে হবে। তাহলেই দেশ নিজস্ব শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করতে পারবে।
