তেজগাঁও কলেজ হোস্টেল সংঘর্ষ: চার দিন পর মৃত্যু, ছাত্রের হারানো জীবন

রাজধানীর তেজগাঁও কলেজ — যেখানে সম্প্রতি হোস্টেলে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী জীবনের মায়া ছাড়িয়ে গেছেন। ঘটনার দিন হোস্টেলের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করেছিল। অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু (অভিযোগ অনুসারে) মাদকগ্রস্থ ব্যক্তি হোস্টেলে ছিলেন। সেই কারণে শান্তিপূর্ণ হোস্টেলবাসীরা প্রতিবাদ জানালেন। প্রতিবাদের পরই সংঘর্ষ শুরু হয়।

সংঘর্ষে গুরুতর মাথাব্যথা পান ওই ছাত্র — সাকিবুল হাসান রানা, বয়স ১৮ বছর, তিনি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের বিজ্ঞান বিভাগে পড়তেন। মারামারির সময় প্রাথমিকভাবে আহত হলে তাকে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চার দিনের সর্বশেষ চিকিৎসার পর মঙ্গলবার দুপুরে তিনি আইসিইউতে মারা যান।

পরিবার ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ জানিয়ে না, হাসপাতাল থেকে সরাসরি গাজীপুরে তার দেহ নিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, দেহটি ফেরত এনে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল — কিন্তু এখনও পর্যন্ত ময়নাতদন্ত হয়নি এবং কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

ছাত্র সংগঠন ও তার সহপাঠীরা অভিযোগ করেছেন, যেভাবে ছাত্ররা আহত হয়েছিল, সে ঘটনার পেছনে মাত্রা ছিল হঠাৎ। তারা জানিয়েছে, হোস্টেলে মাদক সেবন বিরোধী প্রতিবাদের পর যাদের নাম সরাসরি ওঠে — তাদেরই বলা হচ্ছে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে, তারা আগামীতে ন্যায়বিচার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

এই ঘটনার পর তেজগাঁও কলেজের হোস্টেল এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। সাধারণ প্রশ্ন — হোস্টেল কি এখনো নিরাপদ? ছাত্রদের কি সত্যিই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে? বা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কলেজ প্রশাসন, পুলিশ ও সহ-শিক্ষকগণ কতটা দায়িত্ব নিয়েছেন?

ছাত্র ও অভিভাবকরা বলছেন, শুধু কড়া আইন নয়; ছাত্রদের নিরাপদ পরিবেশ, মাদকমুক্ত হোস্টেল, এবং নিয়মিত নজরদারি চালানো প্রয়োজন। তবেই এমন করুণ ঘটনা আর ঘটা বন্ধ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *