সম্প্রতি ঢাকায় রাজধানীর কাওরান বাজার ও ফার্মগেট এলাকায় দেশের শীর্ষস্থানীয় দুইটি সংবাদপত্র—বাংলা দৈনিক প্রথম আলো এবং ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার—এর অফিসে coordinated বা সমন্বিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। দুপুরের পর থেকে সমাজে উত্তেজনা বাড়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা রাতের দিকে এসব কার্যালয়ের দিকে মিছিল নিয়ে চলে আসে। তদন্তকারীরা বলছেন, এর পেছনে মূল কারণ হলো একটি রাজনৈতিক সংগঠনের মুখপাত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়া, যা উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি করে।
হামলা শুরু হয় মধ্যরাতে, প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুরকারীরা অফিসের ভেতরে ঢুকে কাগজপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করে এবং বাইরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। কিছু সময় পরেই বিক্ষুব্ধ জনতা ডেইলি স্টার অফিসের সামনে এসে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালায়। তারা ভবনের নিচতলায় ভাঙচুর চালিয়ে কয়েকটি তলা জুড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ভবনের উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভেতরে কর্মরত অনেক সাংবাদিক ও কর্মী আটকা পড়েন।
অগ্নিকাণ্ড এবং ধোঁয়ার কারণে ভবনের ভেতরে থাকা সাংবাদিকরা অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। অনেকেই ছাদের দিকে শরণ নেন, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত অবস্থায় তারা সাহায্যের আকুতি জানান। পরে ফায়ার সার্ভিসের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় সাংবাদিক ও কর্মীদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। আনুমানিক চার ঘণ্টা পর বেশিরভাগ লোককে বের করা সম্ভব হয়, যদিও ধোঁয়া ও গরম পরিবেশের জন্য অনেকেই শারীরিক কষ্ট অনুভব করেন।
হামলার সময় ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গণমাধ্যম এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ এর সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে গেলে তাঁকেও বিক্ষুব্ধ জনতা হেনস্থা করে। এ মুহূর্তের ভিডিও এবং ছবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ঘটনার পর সংবাদপত্র মালিক এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ এবং নিন্দা প্রকাশ করেছে। তারা হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কড়া সাজা দাবি করছেন। সংগঠনগুলো মনে করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মানুষের জানার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিফলন।
হামলার পর থেকে উভয় পত্রিকার ছাপা সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ রয়েছে এবং অনলাইনে খবর আপডেট করা যেতে অনেকটা সময় লেগেছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছেন।
