বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নিপাহ ভাইরাসের একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের মানবদেহে পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষা পরিচালনা করছে দেশের আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি গবেষকদের সহযোগী দল। পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো ভ্যাকসিনটি মানুষের শরীরে কতটা নিরাপদ এবং কতটা প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করতে পারে তা যাচাই করা।
প্রাথমিক ধাপের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিয়ে ভ্যাকসিন গ্রহণের পর তাদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা হয়। বর্তমানে দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যেখানে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী তিন শতাধিক সুস্থ স্বেচ্ছাসেবী অংশ নিচ্ছেন। পরীক্ষাটি ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নিপাহ ভাইরাস বাংলাদেশে প্রায় প্রতি বছরই ছোট-বড় সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভাইরাসের মৃত্যুহার খুব বেশি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত। শুরুতে সাধারণ জ্বর বা মাথাব্যথা দেখা দিলেও কয়েক দিনের মধ্যেই তা মস্তিষ্কের প্রদাহ বা শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর সমস্যায় পরিণত হতে পারে।
বর্তমানে নিপাহ ভাইরাসের জন্য কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। সংক্রমণ রোধই একমাত্র কার্যকর উপায়। তাই নতুন ভ্যাকসিনের পরীক্ষার অগ্রগতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের জন্য একটি বড় আশার খবর।
গবেষকরা বলছেন, সব ধাপের পরীক্ষা সফলভাবে শেষ হলে ভবিষ্যতে এই ভ্যাকসিন নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
