জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অংশ হচ্ছেন না। রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি তাঁর এই রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করেন। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী সমঝোতা ও জোট গঠনের প্রেক্ষাপটে দলটির ভেতরে যখন তীব্র অসন্তোষ ও ভাঙন চলছে, তখনই মাহফুজ আলমের এই ঘোষণা বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
জোটের প্রস্তাব ও ব্যক্তিগত অবস্থান মাহফুজ আলম তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, জামায়াত-এনসিপি জোট থেকে তাঁকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তিনি বলেন, “ঢাকার কোনো একটি আসনে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হওয়ার চেয়ে আমার ‘লং স্ট্যান্ডিং পজিশন’ (দীর্ঘদিনের অবস্থান) ধরে রাখা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও জানান যে, এনসিপিকে একটি স্বতন্ত্র ও বৃহত্তর ‘জুলাই আমব্রেলা’ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা তিনি করেছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা সফল হয়নি।
সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পর্ক ও নীতিগত পার্থক্য জুলাই অভ্যুত্থানের সময় থেকে এনসিপি ও নাগরিক কমিটির নেতাদের সঙ্গে মাহফুজ আলমের গভীর সম্পর্ক থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে তিনি আর তাদের সাথে থাকছেন না। তিনি বলেন, “আমার জুলাই সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান ও বন্ধুত্ব মুছে যাবে না, কিন্তু আমি এই এনসিপির অংশ হচ্ছি না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যে নীতি ও আদর্শের কথা (নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সামাজিক ফ্যাসিবাদ মোকাবিলা ইত্যাদি) তিনি বলে আসছেন, তা এনসিপির বর্তমান কাঠামোর মধ্যে কতটা সুরক্ষিত।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও শীতল যুদ্ধ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে একটি ‘শীতল যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে মাহফুজ আলম বলেন, এই সময়ে কোনো পক্ষ না নিয়ে নিজের নীতিতে অটল থাকাই শ্রেয়। তিনি মনে করেন, বিকল্প তরুণ বা ‘জুলাই শক্তি’র সম্ভাবনা এখনো ফুরিয়ে যায়নি। বরং একটি মধ্যপন্থী এবং স্বাধীন চেতনার তরুণ শক্তির উত্থান এখন সময়ের দাবি। তিনি ঘোষণা দেন যে, গত দেড় বছর ধরে তিনি যে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে আসছেন, তা অব্যাহত রাখবেন এবং যারা এই আদর্শে বিশ্বাসী তাদের স্বাগত জানাবেন।
এনসিপিতে ভাঙনের প্রেক্ষাপট মাহফুজ আলমের এই ঘোষণার আগে থেকেই এনসিপির ভেতর অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার প্রতিবাদে ইতিমধ্যে দলটির শীর্ষ নেত্রী তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীন পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া প্রায় ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা এই জোটের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর আপত্তির কথা জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। মাহফুজ আলমের এই সিদ্ধান্ত এনসিপির নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ দলটির নীতি নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী।
