ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আসন সমঝোতা ও নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন পদত্যাগ করেছেন। রোববার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেন।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম জানান, জামায়াতসহ আট দলের সঙ্গে এই সমঝোতা মূলত একটি ‘নির্বাচনী কৌশল’, কোনো ‘আদর্শিক ঐক্য’ নয়। দুই নারী নেত্রীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কেউ দলে থাকবেন কি না বা নির্বাচন করবেন কি না, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমরা আমাদের নির্বাহী পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই এই জোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও যোগ করেন, যেকোনো বড় সিদ্ধান্তে ভিন্নমত বা আপত্তি থাকতে পারে, তবে দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মী জোটের পক্ষে একমত। যারা বিরোধিতা করছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বুঝিয়ে দলে রাখার চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।
তাসনিম জারা ও তাজনূভা জাবীনের অবস্থান গত শনিবার সন্ধ্যায় এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দল বা জোটের প্রার্থী না হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ইতিমধ্যে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার আইনি প্রক্রিয়া (ভোটারদের স্বাক্ষর সংগ্রহ) শুরু করেছেন।
অন্যদিকে, আজ দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেন দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা-১৭ আসনের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী ডা. তাজনূভা জাবীন। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্তে তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করে লেখেন, “এই জিনিস হজম করে মরতেও পারব না আমি।” তিনি অভিযোগ করেন, এই জোট গঠনের বিষয়টি আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে সাজানো ছিল।
এনসিপিতে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ পদত্যাগকারী এই দুই নেত্রী ছাড়াও এনসিপির আরও ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা জামায়াতের সঙ্গে জোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তারা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে দেওয়া এক চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত রাজনৈতিক ইতিহাস এবং ১৯৭১ সালের ভূমিকার কারণে তাদের সঙ্গে জোট গঠন এনসিপির নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এই চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম ও খালেদ সাইফুল্লাহর মতো শীর্ষস্থানীয় নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা দাবি করেন, সংস্কার ও জুলাই বিপ্লবের বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বৃহত্তর ঐক্য গঠন করা হয়েছে।
