অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় শীতকালীন প্রবল ঝড় ও বৃষ্টির তাণ্ডবে এক ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। একদিকে প্রকৃতির রুদ্ররূপ, অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর ত্রাণ সরবরাহে কঠোর বিধিনিষেধ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে গাজাবাসীর মানবিক সংকট এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে গাজার এই বর্তমান মানবেতর পরিস্থিতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রাণহানি গত রবিবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে গাজার অস্থায়ী তাবু ও আশ্রয় শিবিরগুলো বিধ্বস্ত হয়েছে। মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি তাবুর ওপর গাছ ভেঙে পড়লে এক নারী নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন। বৃষ্টিতে নিচু এলাকার আশ্রয় শিবিরগুলোতে হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রচণ্ড ঠান্ডায় তাবুগুলোতে শিশুদের মধ্যে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ত্রাণ সরবরাহে ইসরায়েলি বাধা প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মধ্যেই ইসরায়েল গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথগুলো আরও সংকুচিত করেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও তল্লাশির অজুহাতে শত শত ত্রাণবাহী ট্রাক সীমান্তে আটকে রেখেছে। জ্বালানির অভাবে গাজার হাসপাতালগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং রুটি তৈরির কারখানাগুলো (বেকারি) বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছাতে না পারলে গাজায় দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি এড়ানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা টানা বৃষ্টিতে গাজার ভেঙে পড়া পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উপচে পড়ে নোংরা পানি রাস্তায় ছড়িয়ে পড়েছে। এটি পানিবাহিত রোগের সংক্রমণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অধিকাংশ ফিলিস্তিনি এখন খোলা আকাশের নিচে বা পলিথিনের তৈরি তাবুতে রাত কাটাচ্ছেন, যা বৃষ্টির পানি ও প্রচণ্ড ঠান্ডা প্রতিরোধে সক্ষম নয়। গাজার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, তাদের কাছে পর্যাপ্ত উদ্ধারকারী সরঞ্জাম ও পাম্প নেই, যা দিয়ে তারা প্লাবিত এলাকা থেকে পানি সরাতে পারে।
আন্তর্জাতিক উদ্বেগ গাজার এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্রুত ‘মানবিক করিডোর’ খোলার দাবি জানিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ত্রাণ আটকে রেখে গাজাবাসীকে সম্মিলিত শাস্তির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তারা দ্রুত শীতবস্ত্র, কম্বল, তাবু এবং খাদ্যসামগ্রী পাঠানোর জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি অবস্থানে কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা গাজার সাধারণ মানুষের কষ্টকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করছে।
