বরিশালের রূপাতলী এলাকার ‘হযরত মাওলানা মির্জা এনায়েতুর রহমান বেগ কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসা’র নামে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে পরিচালিত হয় এবং এর জন্য কারো কাছ থেকে কোনো অনুদান বা চাঁদা নেওয়া হয় না। জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতে তিনি সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষকে এই প্রতিষ্ঠানের নামে কোনো টাকা না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।
প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মির্জা আবু জাফর বেগ জানান, ২০০১ সালে তিনি রূপাতলী মৌজায় সাড়ে ৪৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে নিজস্ব বসতবাড়ি ও একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে ২০০৫ সালে একই এলাকায় মাদ্রাসার স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য আরও প্রায় ১৬ শতাংশ জমি কমপ্লেক্সের নামে ক্রয় করেন। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় ব্যয়ভার তিনি নিজেই বহন করে আসছেন। এমনকি মাদ্রাসার নতুন ভবন নির্মাণের যাবতীয় খরচও তিনি একাই বহন করবেন বলে জানান। তাই ভবন নির্মাণ বা পরিচালনার অজুহাতে যারা চাঁদা তুলছে, তারা মূলত প্রতারণা করছে।
আবু জাফর বেগ আরও অভিযোগ করেন, তার অনুমতি ছাড়াই একটি মহল জনৈক ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠানের ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে নিয়োগ দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি মাদ্রাসা চত্বরে বিনা অনুমতিতে ‘যুব হিযবুল্লাহর’ নামে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, তার প্রতিষ্ঠানে যুব হিযবুল্লাহর কোনো শাখা বা অফিস নেই। স্থানীয় কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ব্যবহার করে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি এলাকাবাসীকে অর্থের পরিবর্তে শুধুমাত্র সুপরামর্শ ও দোয়া দিয়ে পাশে থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে মাওলানা মির্জা নুরুর রহমান বেগ জানান, জমিটি তার চাচা ক্রয় করলেও পৃষ্ঠপোষক নিয়োগের বিষয়টি মাদ্রাসা বোর্ডের মাধ্যমে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে পারিবারিকভাবে কোনো বিরোধ নেই এবং বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলাপ করেই সমাধান করা সম্ভব ছিল। তার মতে, মাদ্রাসার কাজ সবার সহযোগিতাতেই চলে এবং মানুষ স্বেচ্ছায় এখানে দান করে থাকেন।
