১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মহানায়ক এবং সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক কাজী গোলাম মাহবুবের (ছরু কাজী) ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ বুধবার নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তাঁর জন্মস্থান বরিশালের গৌরনদী এবং রাজধানী ঢাকার বাসভবনে এই ভাষা বীরের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম জহির কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গৌরনদীর ‘ভাষা সৈনিক কাজী গোলাম মাহবুব চত্বরে’ তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এছাড়া তাঁর পৈতৃক গ্রাম লাখেরাজ কসবায় দিনব্যাপী কোরআনখানি, স্থানীয় জামে মসজিদে আলোচনা সভা, দোয়া মোনাজাত ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছে মরহুমের পরিবার। একইভাবে ঢাকার ধানমন্ডিস্থ ‘ভাষা আন্দোলন জাদুঘর ও গবেষণা কেন্দ্র’ এবং ‘জাতীয় ভাষা আন্দোলন স্মৃতি রক্ষা পরিষদ’ পৃথকভাবে স্মরণ সভার আয়োজন করেছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯২৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন কাজী গোলাম মাহবুব। তিনি ছিলেন কাজী আব্দুল মাজেদের বড় ছেলে। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ঐ বছরের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষার দাবিতে আয়োজিত হরতালে পিকেটিং করার সময় তিনি কারাবরণ করেন। ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন পল্টনে উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে কাজী গোলাম মাহবুব নতুন করে আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বদলীয় সভার আয়োজন করেন এবং সেই কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত হন।
আজীবন দেশ ও ভাষার জন্য লড়াই করা এই নিবেদিতপ্রাণ নেতা ২০০৬ সালের ১৯ মার্চ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর গৌরবোজ্জ্বল অবদান আজও বাঙালি জাতির হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
