দেশের প্রকৃত মালিক হচ্ছে সাধারণ নাগরিক এবং কোনো ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী বা ব্যক্তি চাইলেই জনতাকে উপেক্ষা করে গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম জহির উদ্দিন স্বপন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার দুপুরে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় ‘অবাধ নির্বাচনের জন্য ফ্যাসিবাদমুক্ত ও পেশাদার প্রশাসন’ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাবেক এই সংসদ সদস্য তাঁর বক্তব্যে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের আগে শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনীকে ব্যবহার করে ছাত্র-জনতাকে হত্যা করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ছাড়া অন্য প্রায় সব সংস্থাকেই তৎকালীন সরকার তাদের স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। বিশেষ করে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলোতে প্রশাসনের একটি অংশকে ব্যবহার করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। স্বপন আরও জানান যে, এই তিন বিতর্কিত নির্বাচনে যে সকল ডিসি, রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা অবৈধ নির্বাচনের নথিতে স্বাক্ষর করে ফ্যাসিবাদের পথ প্রশস্ত করেছেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন ঘোষণা করেন, রাজনৈতিক দলগুলো এই কর্মকর্তাদের দুই ভাগে ভাগ করবে। যারা সরকারি চাপে কাজ করলেও মূলত পেশাদার কর্মকর্তা ছিলেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের পুরস্কৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে যারা স্বেচ্ছায় ফ্যাসিবাদের দোসর হয়ে ৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লবের সভাপতিত্বে এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল এবং আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোঃ হাফিজুল ইসলাম। এছাড়াও সভায় সদস্য সচিব বশির আহম্মেদ পান্না, গৌরনদী বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, জহির সাজ্জাদ হান্নান এবং পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সফিকুর রহমান স্বপনসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
