গৌরনদীতে শতবর্ষী বিদ্যালয়ে পুনর্মিলনী: প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় উৎসবের আমেজ

বরিশালের গৌরনদীতে প্রায় একশ বছরের পুরনো একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথমবারের মতো আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক বর্ণিল সাজে সেজেছিল। ঈদের আমেজের মধ্যেই বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই আনন্দঘন আয়োজন।

দীর্ঘদিন পর শৈশব ও কৈশোরের বন্ধুদের ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। মেদাকুল বিএমএস ইনস্টিটিউশনের এই আয়োজনে অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে বর্তমানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সচিব, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সমাজের নানা স্তরের গুণীজনরা উপস্থিত ছিলেন। বাল্যবন্ধুদের সাথে আড্ডা, গল্প, হাসি-ঠাট্টা আর নাচে-গানে তারা ফিরে গিয়েছিলেন সেই সোনালী দিনগুলোতে।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, কর্মজীবনের ব্যস্ততায় সবাই বিচ্ছিন্ন থাকলেও এই আয়োজন তাদের আবারও এক সুতোয় গেঁথেছে। প্রাণের বিদ্যাপীঠের খেলার মাঠে প্রিয় বন্ধুদের সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো ছিল তাদের জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি। অনুষ্ঠানে বর্তমান ও প্রাক্তন মিলিয়ে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।

অনুষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য একটি অংশ ছিল প্রয়াত ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মান জানানো। বিদ্যালয়টির ১২ জন প্রয়াত শিক্ষককে মরণোত্তর সম্মাননা এবং চারজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল কবিতা আবৃত্তি, দলীয় নৃত্য, সংগীত এবং জাদুকরী প্রদর্শনী। ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিল্পীরা দর্শকদের বিনোদন প্রদান করেন।

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় শত বছরের ইতিহাসে এটিই ছিল বিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনী। মূলত সবাইকে আনন্দ দেওয়া এবং পুরনো দিনের বন্ধনকে সুদৃঢ় করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে আসা অতিথিরা এই সুন্দর উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং প্রতি বছর এমন মিলনমেলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই প্রাচীন বিদ্যাপীঠ দেশ ও জাতির কল্যাণে দীর্ঘকাল ধরে অবদান রেখে আসছে। আগামী প্রজন্ম যাতে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে, সেই লক্ষ্যে কাজ করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি শিক্ষকদের সম্মান প্রদানের মাধ্যমেই সমাজে প্রকৃত মর্যাদা অর্জন করা সম্ভব বলে উল্লেখ করা হয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এই মনোমুগ্ধকর আয়োজনে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *