হিযবুল্লাহর নায়েবে আমীরের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও জমি দখলের অভিযোগ; থানায় অভিযোগ দায়ের

বরিশাল ব্যুরো: বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর নায়েবে আমীর মাওলানা মির্জা নুরুর রহমান বেগ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি যার দান করা জমিতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্মিত, তার পরিবারের সদস্যদেরই সেখানে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩ মার্চ) কোতয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন জমির মালিকের ভাতিজা আসাদুজ্জামান।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বরিশালের রূপাতলীতে আমেরিকা প্রবাসী মির্জা আবু জাফর বেগের ক্রয়কৃত ৪৫ শতাংশ জমিতে একটি ইসলামিক কমপ্লেক্স করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার চাচাতো ভাই এনায়েতুর রহমানের নামে ‘এনায়েতুর রহমান কমপ্লেক্স’ ও একটি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন এনায়েতুর রহমানের ছেলে মির্জা নূরুর রহমান বেগ ও তার ভাইয়েরা। প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণের জন্য আবু জাফর বেগ আরও অর্থ প্রদান করলে নতুন করে ১৫ শতাংশ জমি ক্রয় করা হয়।

অভিযোগকারী আসাদুজ্জামান দাবি করেন, তার চাচা আমেরিকা থেকে বিপুল অর্থ সহায়তা দিলেও নূরুর রহমান বেগ ও তার ভাইয়েরা বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত টাকা আত্মসাৎ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। এনায়েতুর রহমান কমপ্লেক্সের নবগঠিত কমিটির সহকারী মোহতামিম ও খতিব মাওলানা মির্জা আসাদুজ্জামান বেগ জানান, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আবু জাফর বেগ ২২ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করে দায়িত্ব দিলেও নূরুর রহমান বেগের অনুসারীরা তাদের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।

এদিকে, শুক্রবার (৪ মার্চ) জুম্মার নামাজ আদায় করতে গেলে কমিটির সদস্যদের ওপর হামলা ও মসজিদে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় একজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উল্লেখ্য, মির্জা নূরুর রহমান বেগ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রভাবশালী নেতা আমির হোসেন আমু ও সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *