ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের পবিত্র শহর বেথলেহেমে দীর্ঘ দুই বছর পর আবার ফিরেছে বড়দিনের উৎসবের আমেজ। তবে এই আনন্দ উদযাপনের আড়ালে রয়ে গেছে গভীর এক বিষাদ আর বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস। আল জাজিরার এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনিদের মনে এখন বিরাজ করছে আনন্দ ও বেদনার এক অম্লমধুর অনুভূতি।
টানা দুই বছর গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও ভয়াবহ ধ্বংসলীলার কারণে বেথলেহেমে বড়দিনের সব ধরণের প্রকাশ্য উৎসব ও আলোকসজ্জা বন্ধ ছিল। এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ায় এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকায় চার্চ অব দ্য নেটিভিটির সামনে বিশাল বড়দিন বৃক্ষ বা ক্রিসমাস ট্রি স্থাপন করা হয়েছে এবং আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ড্রাম ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে স্কাউট দলের কুচকাওয়াজ শহরের রাজপথগুলোতে আবারও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে।
তবে এই বাহ্যিক আনন্দের ভেতরেও ফিলিস্তিনিদের যন্ত্রণার ছায়া স্পষ্ট। বেথলেহেমের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, একদিকে উৎসবের এই আয়োজন তাদের ঐতিহ্য ও টিকে থাকার লড়াইকে তুলে ধরছে, অন্যদিকে গাজায় নিহত হাজার হাজার স্বজন আর ধ্বংসস্তূপের স্মৃতি তাদের আনন্দকে পূর্ণতা পেতে দিচ্ছে না। অনেকের মতে, এটি এমন এক বড়দিন যেখানে ঠোঁটে হাসি থাকলেও চোখে জল রয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে বেথলেহেম শহরটি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধের কারণে গত দুই বছর কোনো পর্যটক না আসায় স্থানীয় অর্থনীতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল। এখন উৎসবের হাত ধরে কিছু পর্যটক ফিরতে শুরু করায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশার আলো দেখছেন। তাসত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তল্লাশি চৌকি আর যাতায়াতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষের চলাফেরা এবং পর্যটন ব্যবসা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি।
জেরুজালেমের ল্যাটিন প্যাট্রিয়ার্ক কার্ডিনাল পিয়েরবাতিস্তা পিজাবাল্লা বেথলেহেমের এই বড়দিনের আয়োজনকে ‘অন্ধকারের মাঝে আলোর প্রতিফলন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি গাজার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে আসেন এবং শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন।
সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালের এই বড়দিন বেথলেহেমের মানুষের কাছে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি তাদের সহনশীলতা এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষার এক শক্তিশালী প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
