ইউক্রেনের প্রধান বন্দর নগরী ওডেসায় সম্প্রতি রাশিয়ার হামলা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওডেসার আঞ্চলিক গভর্নরের তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বন্দরের অবকাঠামো এবং বেসামরিক মালবাহী জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উত্তেজনার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ রয়েছে:
১. অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া: ওডেসা ইউক্রেনের বৃহত্তম বন্দর নগরী। যুদ্ধের আগে ইউক্রেনের ৭০ শতাংশ রপ্তানি ওডেসাসহ পার্শ্ববর্তী বন্দরগুলো দিয়ে সম্পন্ন হতো। রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে ওডেসার শিপিং সুবিধা এবং জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে যাতে ইউক্রেনের রপ্তানি বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যায়।
২. কৃষ্ণ সাগরে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিশোধ: রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, কৃষ্ণ সাগরে ইউক্রেনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা রাশিয়ার অন্যতম লক্ষ্য। সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার ‘ছায়া নৌবহর’ (Shadow Fleet)-এর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। রাশিয়া ওডেসায় হামলা বাড়িয়ে তার প্রতিশোধ নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
৩. লজিস্টিক চেইন বিচ্ছিন্ন করা: রাশিয়া নিস্টার নদীর (Dniester River) ওপরের গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। এই রুটটি ইউক্রেনের জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ৪০ শতাংশ বহন করে। এই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমে রাশিয়া ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দিতে চায়।
৪. কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি: ওডেসায় রাশিয়ার এই হামলার তীব্রতা এমন এক সময়ে বেড়েছে যখন ওয়াশিংটন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে এবং ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়াতে এই কৌশল গ্রহণ করেছে।
ওডেসার এই বন্দরগুলো যদি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে ইউক্রেনের মুদ্রা ‘হরিভনিয়া’ (Hryvnia) বড় ধরনের সংকটে পড়বে এবং বিশ্বজুড়ে খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
