ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ঘোষণা করেছেন যে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা উপত্যকা থেকে কখনোই পুরোপুরি প্রত্যাহার করবে না। মঙ্গলবার এক বক্তব্যে তিনি জানান, ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডের ভেতরে স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার জন্য বিশেষ সামরিক ইউনিট বা আউটপোস্ট স্থাপন করা হবে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো:
-
স্থায়ী উপস্থিতি: কাটজ স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা গাজার অনেক গভীরে অবস্থান করছি এবং আমরা কখনোই পুরো গাজা ছেড়ে যাব না।” তিনি নিরাপত্তার খাতিরে উত্তর গাজায় ‘নাহাল’ (Nahal) ব্রিগেডের আউটপোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন।
-
শান্তি চুক্তির লঙ্ঘন: গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত একটি শান্তি পরিকল্পনায় ইসরায়েল ও হামাস স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে গাজা থেকে ইসরায়েলি সৈন্য সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছিল। কাটজের এই ঘোষণা সেই চুক্তির সরাসরি পরিপন্থী।
-
বসতি স্থাপন ও সার্বভৌমত্ব: অধিকৃত পশ্চিম তীরের ‘বেত এল’ (Beit El) নামক অবৈধ বসতিতে ১,২০০ নতুন ঘর নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বর্তমান সরকারকে একটি “বসতি স্থাপনকারী সরকার” হিসেবে বর্ণনা করেন এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার যুগের কথা উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: কাটজের এই মন্তব্যে মার্কিন প্রশাসন অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন যে, গাজায় নাহাল ইউনিটগুলো কেবল “নিরাপত্তার কারণে” অবস্থান করবে। তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি দীর্ঘমেয়াদী দখলেরই একটি অংশ।
মানবিক পরিস্থিতি: গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আরও অন্তত ৪০৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭০,৯৪২ ছাড়িয়েছে।
