সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে ভারতের অনেক রপ্তানি খাত সংকটের মুখে পড়লেও, ‘মাখনা’ বা ফক্স নাটস তার নিজস্ব মহিমায় নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছে। আল জাজিরার একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ভারতীয় সুপারফুডটি মার্কিন বাজারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন বাজার দখল করছে।
বিহারের নিম্নভূমি অঞ্চলে উৎপাদিত এই পুষ্টিকর খাবারটি বর্তমানে ভারতসহ সারাবিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এক সময় মাখনা কেবল ঘরোয়া বা ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হলেও, বর্তমানে এটি স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অন্যতম প্রিয় জলখাবার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। ভারতে বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশ মাখনা উৎপাদিত হয় এবং প্রায় দেড় লক্ষ কৃষক এই চাষের সাথে জড়িত।
মার্কিন শুল্কনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় মাখনার রপ্তানি প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আগে যেখানে ২৫ গ্রামের একটি প্যাকেট ২ ডলারে পাওয়া যেত, শুল্কের প্রভাবে বর্তমানে তার দাম বেড়ে ৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের বাজেটে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও রপ্তানিকারকরা এতে দমে যাননি। তারা এখন স্পেন, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো নতুন নতুন বাজারে মাখনা পৌঁছে দিচ্ছেন। বিশেষ করে প্রবাসী ভারতীয়দের মাধ্যমে এবং মাখনার স্বাস্থ্যগত উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ার ফলে এই নতুন বাজারগুলো দ্রুত গড়ে উঠছে।
ভারতে মাখনার অভ্যন্তরীণ বাজারও দ্রুতগতিতে বাড়ছে। করোনা মহামারীর পর মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সচেতনতা তৈরি হওয়ায় দেশে মাখনার চাহিদা প্রতি বছর দ্বিগুণ হচ্ছে। সুপারমার্কেটগুলোর তাকে এখন পেরি-পেরি, পনির, পেঁয়াজ-ক্রিম এবং টক-ঝাল টমেটোসহ বিভিন্ন স্বাদের আধুনিক মোড়কে মাখনা পাওয়া যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালে মাত্র ৫ হাজার হেক্টর জমিতে মাখনা চাষ হতো, যা বর্তমানে বেড়ে প্রায় ৪০ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরাও এখন মাখনার ভালো দাম পাচ্ছেন। মার্কিন শুল্কের ধাক্কা সামলে নিয়ে ভারতীয় মাখনা এখন বিশ্ববাজারে তার শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হচ্ছে, যা দেশটির কৃষি অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা।
