সুন্দরবনসহ উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি সংরক্ষণে সম্মিলিত প্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই

মোংলা: বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে টিকে থাকার স্বার্থেই পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণ ও প্রকৃতি সংরক্ষণ করা মানুষের দায়িত্ব। কোনো সৃষ্টি যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। নিজেদের প্রয়োজনে উদ্ভিদ ও প্রাণীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা অপরিহার্য, কারণ সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ ছিল প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। মহাপ্রাণ সুন্দরবনসহ উপকূলীয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।

গত বুধবার সকালে মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ পরিবেশ সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সবুজ সাথী সম্মাননা’ প্রদান উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। জলবায়ু ও পরিবেশবাদী জাতীয় সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ এবং ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

পরিবেশ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’-এর কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব শরীফ জামিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী। সংবর্ধিত সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম রব্বানী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জেল সোহেল, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার হাওলাদার, মোংলা টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম, বৃক্ষপ্রেমিক সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস এবং কবি আফরোজা হীরা। এ ছাড়া কৃষিজমি রক্ষা আন্দোলনের নেতা বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমী বলেন, বর্তমান সরকার পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে। সুন্দরবনের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকার মধ্যে মোংলা অবস্থিত হওয়ায় এখানে আইন ও নীতি পরিপন্থী কোনো কাজ সহ্য করা হবে না।

এ বছর বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে অনন্য অবদানের জন্য ‘সবুজ সাথী সম্মাননা’ প্রদান করা হয় মোংলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কে এম রব্বানীকে। সম্মাননা গ্রহণ করে তিনি বলেন, বৃক্ষপ্রেম আমাদের একটি সামাজিক শিক্ষা যা আমরা পরিবার থেকে পাই। গাছ লাগানোর সময় পশুপাখিদের খাদ্য ও বাসস্থানের কথা মাথায় রাখা উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে শরীফ জামিল বলেন, পরিবেশ বিপর্যয় মারাত্মক আকার ধারণ করলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনেক মানুষ নিভৃতে পরিবেশ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের এই ভালো কাজগুলো সমাজের সামনে তুলে ধরলে অন্যরাও উৎসাহিত হবে। সুন্দরবন রক্ষায় তিনি বিতর্কিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *