কুমিল্লায় প্রেমিকের ধাওয়ায় পুকুরে ঝাঁপ, পরদিন যুবকের মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রাতের আঁধারে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া সেলিম মিয়া (৪০) নামে এক যুবককে এলাকাবাসী ধাওয়া করলে তিনি পিটুনি থেকে বাঁচতে একটি পরিত্যক্ত পুকুরে লাফিয়ে পড়েন। পরদিন দুপুরে ওই পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত সেলিমের বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও তিনি মনোহরগঞ্জের সরসপুর ইউনিয়নের ভাউপুর গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার লক্ষ্মণপুর গ্রামের পরিত্যক্ত পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রাতে সেলিম লক্ষ্মণপুর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী তাকে ধাওয়া করে। পিটুনি এড়িয়ে চলার জন্য সেলিম পাশের পরিত্যক্ত পুকুরে লাফ দেন, যা কচুরিপানায় ভর্তি ছিল। রাতে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন, কিন্তু খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরের দিন সকালে আবারও তল্লাশি শুরু করলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ও স্থানীয়দের সহায়তায় কচুরিপানা সরিয়ে পুকুরের মাঝামাঝি স্থানে সেলিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মনোহরগঞ্জ উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা বিপ্লব বড়ুয়া জানান, রাতে তল্লাশি করা হলেও কচুরিপানার কারণে মরদেহ পাওয়া যায়নি। সকালে পুনরায় তল্লাশি করে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের স্ত্রী অভিযোগ করেছেন, পরকীয়া প্রেমিকা তার স্বামীকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিনুর ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্তে বিস্তারিত তথ্য উদঘাটিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *