ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর উপর অবস্থিত বাসন্ডা বেইলি সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বরিশাল–খুলনা মহাসড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই সেতু ১৯৮৯ সালে নির্মিত হয়। প্রায় চারশ ফুট দীর্ঘ এবং পঁচিশ ফুট প্রশস্ত এ সেতুটি মূলত সাত টন ওজন বহনের জন্য নকশা করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এ সেতুর উপর দিয়ে নকশার চেয়ে বহু গুণ বেশি ভারী যানবাহন চলাচল করছে, ফলে সেতুর অবস্থা আরও অবনতি হয়েছে।
গত নয় বছর ধরে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। বহুবার মেরামতের নামে হাজারো জোড়াতালি লাগানো হলেও সেতুটি এখনো নিরাপদ নয় এবং যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুটি নির্মাণের পর থেকে প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ যানবাহন চলাচল করছে। বর্তমানে সেতুর প্লেটে ছয়শোর বেশি জোড়াতালি লাগানো হয়েছে। নাট-বল্টু খুলে যাচ্ছে এবং সেতুর উপরিভাগ প্রতিদিন আরও বেশি ফাটল ধরছে। ভারী যানবাহন চলার সময় সেতুটি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে, যা চালক ও যাত্রীদের আতঙ্কিত করে। রাতের অন্ধকারে মাঝখানে কোনো আলো না থাকায় পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেশি।
সেতুটি ধসে পড়লে ঝালকাঠি থেকে পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা এবং যশোরের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এতে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, সাত বছর আগে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মেরামতের নামে প্রতি বছর বহুবার জোড়াতালি লাগানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, এসব কাজ টেন্ডার ছাড়া করা হয় এবং বিভাগের কিছু কর্মকর্তা এ থেকে সুবিধা নেন। ফলে সেতুটিকে “ডিম পাড়া হাঁস” বলে আখ্যায়িত করা হয়। কিন্তু এসব অস্থায়ী মেরামত সেতুর প্রকৃত ঝুঁকি কমায় না।
নতুন একটি চার লেনের সেতু নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, সেতুর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হলে নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এ প্রকল্পটি বৃহত্তর সেতু উন্নয়ন উদ্যোগের অংশ এবং প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয় চালক মোহাম্মদ রহমত বলেন, “প্রতিদিন এই সেতু দিয়ে যাওয়া মৃত্যুর মুখে যাওয়ার মতো। সরকারকে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করতে হবে।”
ঝালকাঠি অঞ্চলে মোট আটত্রিশটি সেতু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারি আশ্বাস দেওয়া হলেও কাজ শুরু না হওয়ায় মানুষের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষ বাড়ছে। বাসন্ডা সেতু না থাকলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবনযাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
