ব্রাজিলে ফেমিসাইডের বিরুদ্ধে লাখো মানুষের বিক্ষোভ: ‘Stop killing us’

ব্রাজিলে নারী হত্যা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার উদ্বেগজনক বৃদ্ধির বিরুদ্ধে দেশজুড়ে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। রিও ডি জেনেইরো, সাও পাওলো, ব্রাসিলিয়া, সালভাদরসহ বড় শহরগুলোতে ৮ ডিসেম্বর ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ব্যানার—“Stop killing us”, “Machismo kills”, “Enough of femicide”—যা সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

রিওর বিখ্যাত কোপাকাবানা সৈকতে মানুষ কালো ক্রস স্থাপন করে সাম্প্রতিক নারী হত্যার ঘটনাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। একই সময় সাও পাওলোর পাউলিস্তা অ্যাভিনিউতে বিশাল মিছিল হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ব্রাজিলে নারীরা ঘরে, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায়—সব জায়গায়ই অনিরাপদ হয়ে পড়েছেন।

বিক্ষোভের পেছনে সাম্প্রতিক কয়েকটি ভয়াবহ ঘটনা বড় ভূমিকা রেখেছে। রিও ডি জেনেইরোতে এক নারীকে হত্যা করেন তার পুরুষ সহকর্মী—কারণ তিনি একজন নারী ম্যানেজারের অধীনে কাজ করতে রাজি ছিলেন না। একই সময়ে সাও পাওলো ও অন্যান্য রাজ্যেও ধর্ষণ ও হত্যার কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসে, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে।

ব্রাজিলে ২০২৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত ফেমিসাইডের সংখ্যা ছিল প্রায় দেড় হাজার—যা রেকর্ড উচ্চ। শুধু হত্যা নয়, নারীদের ওপর সহিংসতার ধরনও ক্রমশ নৃশংস হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

বিক্ষোভকারীরা শুধু কঠোর আইন নয়, বরং আইন প্রয়োগে বাস্তব অগ্রগতি, পুলিশি তৎপরতা, সামাজিক শিক্ষার বিস্তার এবং পুরুষদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছেন। অনেক পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এ মিছিলে যোগ দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন শুধু একটি দেশীয় সংকট নয়; এটি নারী-নিরাপত্তার বৈশ্বিক আলোচনাতেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। ব্রাজিলের মানুষ বলছেন—নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হলে সমাজের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের ধারণাই ভেঙে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *