২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে বিক্রয় (export) ও আমদানি (import) ব্যবস্থাপনায় চীনের বাণিজ্য অর্জন এমন এক মাইলস্টোন স্পর্শ করেছে যা আগে সম্ভব হয়নি। বাণিজ্য ঘাটতি নয়, এবার মুনাফায় হয়েছে — চীনের পণ্যের রপ্তানি এবং আমদানির ব্যবধান এত দাঁড়িয়েছে যে, সার্বিক সারপ্লাস ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (!) অতিক্রম করেছে।
বিপরীত বাজারেও চীনের এগিয়ে যাওয়ার কারণ
নভেম্বর মাসে চীনের রপ্তানি ৫.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অক্টোবরের অনাকাঙ্ক্ষিত হ্রাসকে উল্টিয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে আমদানি মাত্র প্রায় ১.৯ শতাংশ বাড়ায় — যার ফলে এক মাসেই সারপ্লাস প্রায় ১১২ বিলিয়ন ডলার হিসেবে হয়েছে।
মৌলিক কারণ — চীন এখন একদমই পুরনো মার্কেট গুলোতে নির্ভর করছে না। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে, কিন্তু চীন ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের দেশগুলোর দিকে তার পণ্য রপ্তানিতে জোর দিয়েছে। নতুন বাজারে রপ্তানিতে সফলতার ফলে চীনের সারাপ্লাসের ভর হয়।
অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট: অভ্যন্তরীণ চাহিদা আর রপ্তানির ভারসাম্য
চীনের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি — বিশেষ করে সম্পত্তি-বাজার ও গৃহনির্মাণ খাত — এখনো সংকটে। দেশটির ভোক্তা চাহিদাও গতিশীল নয়। এমন সময় রপ্তানির ওপর বেশি নির্ভরতার ফলে, সারপ্লাস অর্জন ভরসা দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন — দীর্ঘমেয়াদে চীনের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো, যাতে রপ্তানির ওপর অস্থায়ী নির্ভরতা না গড়ায়।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা
চীনের এত বড় সারপ্লাসে পশ্চিমা দেশগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে এমন সময় যখন বিশ্ব বাজারে দাম কম এবং প্রতিযোগিতা বেড়েছে। কিছু দেশ ইতোমধ্যেই জানিয়েছে — যদি অবিশুদ্ধ প্রতিযোগিতার কারণে বানিজ্য ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, তারা শুল্ক বাড়াতে বা অন্যান্য ব্যারিয়ার বসাতে পারে।
তবে চীন এই পরিবর্তনকে একটি ব্যালান্সিং ম্যানুভার (balancing manoeuvre) হিসেবে দেখছে — বাণিজ্যিকভাবে তার পণ্যের চাহিদা ধরে রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে তার দাপট বজায় রাখা।
