আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েল বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি সংখ্যক দেশে সামরিক হামলা চালিয়েছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে, ইসরায়েল অন্তত ১০,৬৩১টি হামলা পরিচালনা করেছে। নিচে ২০২৫ সালে ইসরায়েলি হামলার শিকার দেশ ও অঞ্চলের তালিকা দেওয়া হলো:
১. ফিলিস্তিন (গাজা ও পশ্চিম তীর): ইসরায়েল সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে এখানে, মোট ৮,৩৩২ বার। গাজায় অন্তত ২৫,০০০ মানুষ নিহত এবং ৬২,০০০ জন আহত হয়েছেন। ২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। পশ্চিম তীরেও কয়েক দশকের মধ্যে বৃহত্তম সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। ২. লেবানন: হিজবুল্লাহর সাথে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল লেবাননে ১,৬৫৩ বার হামলা করেছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে শুরু করে বৈরুতের উপকণ্ঠ পর্যন্ত এই হামলার বিস্তার ছিল। ৩. ইরান: ১৩ জুন ইসরায়েল ২০০টি যুদ্ধবিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ৩৭৯টি হামলা চালায়। ১২ দিনব্যাপী এই সংঘাতের এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইসরায়েলের সাথে যোগ দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। ৪. সিরিয়া: ইসরায়েল সিরিয়ায় অন্তত ২০৭ বার হামলা করেছে। এর মধ্যে জুলাই মাসে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিকটবর্তী এলাকায় ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। ৫. ইয়েমেন: হুতিদের লক্ষ্য করে ইসরায়েল ইয়েমেনে ৪৮ বার হামলা করেছে। আগস্টে এক বিমান হামলায় হুতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাওয়িসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন। ৬. কাতার: ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় হামাস নেতাদের একটি বৈঠক চলাকালীন ইসরায়েল হামলা চালায়। এতে ৬ জন নিহত হলেও হামাসের শীর্ষ নেতারা বেঁচে যান। ৭. আন্তর্জাতিক জলসীমা: গাজায় সাহায্য নিয়ে যাওয়া ত্রাণবাহী বহরের ওপর ইসরায়েল তিউনিসিয়া, মাল্টা এবং গ্রিসের জলসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের এই হামলাগুলো আকাশপথ, ড্রোন, শেলিং এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। এর বাইরে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের (settlers) চালানো হামলা এবং বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনাগুলো এই পরিসংখ্যানের অন্তর্ভুক্ত নয়।
