সিরিয়ায় প্রাণঘাতী বিক্ষোভ ও সংঘাত: বর্তমান পরিস্থিতি ও নেপথ্যের কারণ

আল জাজিরা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিয়ার উপকূলীয় শহরগুলোতে তীব্র বিক্ষোভ এবং প্রাণঘাতী সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের এক বছর পর দেশটিতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংঘাতের মূল কারণসমূহ:

  • মসজিদে বোমা হামলা: গত ২৬ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সিরিয়ার হোমস শহরের ‘ইমাম আলী বিন আবি তালিব’ মসজিদে জুমার নামাজের সময় বোমা হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হন। এই মসজিদটি মূলত আলাউয়ি (Alawite) সম্প্রদায়ের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই হামলার প্রতিবাদেই মূলত বিক্ষোভের সূত্রপাত।

  • আলাউয়ি সম্প্রদায়ের ক্ষোভ: আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে সিরিয়ার সংখ্যালঘু আলাউয়ি সম্প্রদায় নিজেদের কোণঠাসা ও নিরাপত্তাহীন মনে করছে। প্রবাসী নেতা গাজাল গাজালের আহ্বানে লাতাকিয়া, তারতুস এবং জাবলেহ শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।

  • ফেডারেলিজমের দাবি: বিক্ষোভকারীরা বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে রাজনৈতিক ‘ফেডারেলিজম’ বা স্বায়ত্তশাসন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং পূর্ববর্তী সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি (২৯ ডিসেম্বর ২০২৫):

  • হতাহতের সংখ্যা: রবিবারের বিক্ষোভে সহিংসতায় অন্তত ৩ থেকে ৪ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও রয়েছেন। এছাড়া অন্তত ৬০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

  • সেনা মোতায়েন: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় লাতাকিয়া এবং তারতুস শহরের কেন্দ্রে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানসহ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। সরকারি পক্ষ থেকে এই সহিংসতাকে ‘সাবেক শাসনের অবশিষ্টাংশদের’ কাজ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

  • উত্তেজনা: লাতাকিয়ার আজহারি স্কোয়ারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারী, সরকার সমর্থক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সরকার বিরোধী স্লোগান এবং পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টাওয়ায় এলাকাগুলোতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

পরবর্তী ধাপ কী হতে পারে? প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারা’র নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে তারা দেশজুড়ে নিরাপত্তা কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, অন্যদিকে এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সিরিয়াকে পুনরায় গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধারণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *