ইরানের অর্থনৈতিক বিপর্যয়: তেহরানে ধর্মঘট ও গণবিক্ষোভ

আল জাজিরার ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুদ্রাস্ফীতি এবং জাতীয় মুদ্রার নজিরবিহীন দরপতনের প্রতিবাদে ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়ীরা এই চরম অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে এসেছেন।

সংকটের প্রধান দিকগুলো:

  • মুদ্রার রেকর্ড দরপতন: ইরানের জাতীয় মুদ্রা রিয়াল (Rial) সোমবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১ ডলারের মান এখন ১.৪২ মিলিয়ন (১৪ লক্ষ ২০ হাজার) রিয়াল ছাড়িয়ে গেছে। এর ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষে আমদানি বা নিত্যপণ্য বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

  • ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট: তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা ‘জোমহুরি’ (Jomhouri) এবং ‘গ্র্যান্ড বাজার’-এ দোকানপাট বন্ধ করে ধর্মঘট পালন করছেন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যের ব্যবসায়ীরা পণ্য বিক্রয় বন্ধ রেখেছেন, কারণ মুদ্রার মানের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে তারা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

  • বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পদক্ষেপ: রাস্তায় নেমে আসা বিক্ষোভকারীরা “ভয় পেও না, আমরা এক সাথে আছি” বলে স্লোগান দিচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেহরানের রাস্তায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

  • একধিক সংকটের সমন্বয়: মুদ্রাস্ফীতির পাশাপাশি ইরান বর্তমানে জ্বালানি সংকট, পানির অভাব এবং ভয়াবহ বায়ু দূষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া জুন মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলেছে।

  • বাজেট নিয়ে অসন্তোষ: প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ২০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দিলেও বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির হার প্রায় ৫০ শতাংশ। এছাড়া কর ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

পটভূমি: ২০২২-২৩ সালে মাহসা আমিনীর মৃত্যুর পর ইরান যে বড় ধরনের আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছিল, বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট সেই পরিস্থিতিকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার আশঙ্কা তৈরি করছে। সরকার এই বিক্ষোভের জন্য বিদেশি প্রভাবকে দায়ী করলেও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসাই এই অসন্তোষের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *