আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে বিপর্যয়: ওবামায়েংকে বহিষ্কার ও জাতীয় দল স্থগিত করল গ্যাবন সরকার

আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (এএফসিওএন) ২০২৫-এর গ্রুপ পর্ব থেকে লজ্জাজনক বিদায়ের পর গ্যাবন সরকার তাদের জাতীয় ফুটবল দলের ওপর কঠোর খড়্গহস্ত হয়েছে। টুর্নামেন্টে টানা তিনটি ম্যাচে পরাজয়ের পর দেশটির ভারপ্রাপ্ত ক্রীড়ামন্ত্রী সিম্পলিস-ডেসায়ার মাম্বুলা গত বুধবার জাতীয় টেলিভিশন ভাষণে পুরো জাতীয় দলকে স্থগিত করার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে দলের প্রধান কোচ থিয়েরি মুয়ুমাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং দলের সবচেয়ে বড় তারকা পিয়েরে-এমেরিক ওবামায়েং ও অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ব্রুনো ইকুয়েলে মাঙ্গাকে জাতীয় দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মরক্কোয় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে গ্যাবনের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচে ক্যামেরুন এবং মোজাম্বিকের কাছে পরাজিত হয়ে তারা আগেই আসর থেকে ছিটকে গিয়েছিল। তবে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে তারা ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায়, যা সরকারের ক্ষোভকে আরও উস্কে দেয়। ক্রীড়ামন্ত্রী তার বক্তব্যে এই পারফরম্যান্সকে ‘লজ্জাজনক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাতীয় দলের সমস্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। অতীতে আফ্রিকান ফুটবল অঙ্গনে হতাশাজনক ফলাফলের পর দল ভেঙে দেওয়ার প্রবণতা থাকলেও, বর্তমানে ফিফার কঠোর নিয়মের কারণে এমন হস্তক্ষেপ বিরল ঘটনা।

পিয়েরে-এমেরিক ওবামায়েং অবশ্য আইভরি কোস্টের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে খেলতে পারেননি। ঊরুর চোটের চিকিৎসার জন্য তিনি আগেই তার ফরাসি ক্লাব অলিম্পিক মার্শেইতে ফিরে গিয়েছিলেন। সরকারের এই কঠোর সিদ্ধান্তের পর ওবামায়েং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন যে, গ্যাবনের ফুটবল দলের সমস্যাগুলো কেবল কোনো একক ব্যক্তির ওপর দায় চাপিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয় এবং এর গভীরে আরও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। ৩৬ বছর বয়সী এই সাবেক আফ্রিকান বর্ষসেরা ফুটবলারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এই বহিষ্কারের মাধ্যমে হয়তো চিরতরে শেষ হয়ে গেল।

গ্যাবন সরকারের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সাধারণত জাতীয় ফুটবল ফেডারেশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরকারি হস্তক্ষেপকে ফিফা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করে থাকে। এই পরিস্থিতিতে গ্যাবনের ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। যেখানে ফুটবলের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার কথা ছিল, সেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং সরকারি কঠোর ব্যবস্থা গ্যাবনের ক্রীড়াঙ্গনে এক কালো অধ্যায়ের সূচনা করল। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের বিষাদ ছাপিয়ে এখন দেশটির ফুটবলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *