সুইজারল্যান্ডের একটি স্কি রিসোর্ট বারে ইংরেজি নববর্ষের রাতে ঘটা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। দেশটির সরকারি কৌঁসুলি বিয়াট্রিস পিলুড জানিয়েছেন যে, শ্যাম্পেন বোতলের সাথে লাগানো আতশবাজি বা ‘স্পার্কলার’ (যাকে স্থানীয়ভাবে বেঙ্গল লাইট বলা হয়) থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বোতলের সেই জ্বলন্ত স্পার্কলারগুলো ছাদের খুব কাছাকাছি চলে আসায় সেখান থেকেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪০ জন নিহত এবং ১১৯ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডটি ঘটেছিল সুইজারল্যান্ডের ক্রানস-মন্টানা নামক পাহাড়ি পর্যটন শহরের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘লে কনস্টেলেশন’ (Le Constellation) বারে। ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের জন্য বারটি তখন পর্যটক ও স্থানীয়দের ভিড়ে ঠাসা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আগুনের শিখা এতটাই দ্রুত ছড়িয়েছিল যে ভেতরে থাকা অনেক মানুষ বের হওয়ার সুযোগ পাননি। নিহতদের মধ্যে অনেকের শরীর মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের বেগ পেতে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিএনএ নমুনা এবং দাঁতের রেকর্ড ব্যবহার করে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে যাতে কোনো ভুল তথ্য পরিবারের কাছে না পৌঁছায়।
আহত ১১৯ জনের মধ্যে ১১৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে ফরাসি, ইতালীয় এবং সার্বিয়ান নাগরিকরা রয়েছেন। গুরুতর দগ্ধ ৫০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বজনদের আহাজারি পরিবেশকে আরও ভারী করে তুলেছে। ক্রানস-মন্টানা শহরটি বর্তমানে একটি শোকপুরীতে পরিণত হয়েছে; বারের ধ্বংসাবশেষের কাছে শত শত মানুষ মোমবাতি জ্বালিয়ে এবং ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বারের মালিকদের ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের মূল ফোকাস এখন থাকবে বারটি সংস্কারের সময় ব্যবহৃত উপকরণ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার পর্যাপ্ততা এবং জরুরি বহির্গমন পথের ওপর। এছাড়া ঘটনার সময় বারে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত মানুষ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কৌঁসুলি পিলুড হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তদন্তে যদি কোনো গাফিলতি বা নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই উৎসবের রাতটি কীভাবে একটি বিশাল ট্র্যাজেডিতে পরিণত হলো, তা নিয়ে পুরো সুইজারল্যান্ডে এখন শোকের ছায়া বিরাজ করছে।
