জাপান–চীনের উত্তেজনা: চীনা যুদ্ধবিমানগুলো জাপানের দিকে রাডার লক, দূত তলব

জাপান সরকার সম্প্রতি চীনের দূতকে তলব করেছে, কারণ চীনা সামরিক জেটগুলো দুই দফায় জাপানের যুদ্ধবিমানকে ফায়ার-কন্ট্রোল রাডার দিয়ে নিশানা করেছে। এই ঘটনাকে জাপান “অত্যন্ত বিপজ্জনক” ও “চরম দুঃখজনক” ঘটনা হিসেবে মনে করছে।

টোকিওর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শনিবার (৬ ডিসেম্বর) চীনের যুদ্ধবিমান — অনুমান করা হয়েছে জে-১৫ — ওকিনাওয়ার দক্ষিণ-পূর্বের আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাপানের এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দিকে রাডার তাক করেছিল। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রিপরিষদ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ যুদ্ধবিমান ও সামরিক সংঘর্ষের প্রাথমিক সংকেত এবং ভবিষ্যতে এমন কোনো ঘটনা ঘটলে জাপান কঠোর প্রতিক্রিয়া দেবে।

চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রক, তবে, জাপানের এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, ওই সময় তারা একটি অনুমোদিত সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে কাজ করছিল এবং জাপানের বিমানগুলোর আচরণ তাদের উচ্চাভিলাষী বিমানচালনার কার্যক্রম ব্যাহত করছিল।

এঘটনায় কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। জাপান শুধু প্রতিবাদই জানায়নি, চীনের বিরুদ্ধে নতুন নিরাপত্তা নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নির্দেশ দিয়েছে, সামুদ্রিক ও আকাশপথে চীনা নৌ-পদক্ষেপ এবং বিমানচালনার প্রতিটি কার্যকলাপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে।

উভয় পক্ষের মধ্যে ইতিমধ্যেই ভাষ্য-বর্বর বিনিময় শুরু হয়েছে। জাপান চীনের এমন সামরিক আচরণকে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখেছে, আর বেইজিং বলেছে—জাপান প্ররোচনায় অংশ নিচ্ছে।

এই ঘটনা এমন সময় ঘটে, যখন চীন ও জাপানের মধ্যে ইতোমধ্যেই ভূ-নীতিক ও সামরিক উত্তেজনা রয়েছে, বিশেষ করে দ্বীপ দ্বন্দ্ব, জলসীমা দাবি এবং সৈন্য মোতায়েনাকে কেন্দ্র করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সামান্য ভুল বা ভুল বোঝাবুঝি হলে সহজেই বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়ে যেতে পারে।

এই ঘটনাটি শুধু জাপান বা চীনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নয় — পুরো পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য নিরাপত্তাগত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক কালে তাইওয়ান, সেঙ্কাকু দ্বীপ এবং জলসীমার বিষয়গুলোর ওপর আন্তর্জাতিক দৃষ্টিপাত তীব্র রয়েছে।

জাপান সরকার বলেছে, তারা কূটনৈতিকভাবে শান্তি বজায় রাখতে চান, কিন্তু প্রয়োজনে আত্মরক্ষা ও তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য প্রস্তুত। সামনের দিনগুলোতে এই উত্তেজনা কিভাবে গড়াবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *