ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকে বসছেন নেতানিয়াহু: আলোচনার কেন্দ্রে গাজা ও ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করতে ফ্লোরিডায় পৌঁছাচ্ছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে এই দুই নেতার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গত দশ মাসে এটি নেতানিয়াহুর পঞ্চম যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং চলতি বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে এটি তাঁর একাধিক বৈঠকের একটি ধারাবাহিকতা।

আলোচনার প্রধান বিষয়াবলি বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে গাজা যুদ্ধ এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘প্রথম ধাপ’ সম্পন্ন করার বিষয়টি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকার হলো গাজায় কেবল শত্রুতা বন্ধ করা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী শাসন ব্যবস্থা ও পুনর্গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তবে ইসরায়েল গাজায় স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখা এবং নতুন বসতি স্থাপনের যে ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সিরিয়া ও ইরান পরিস্থিতি সিরিয়া ও ইরান ইস্যুতেও দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্যের জায়গাগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ট্রাম্প সম্প্রতি সিরিয়ার নতুন সরকারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছেন এবং তাদের সাথে নিরাপত্তা সহযোগিতার পথ প্রশস্ত করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল সিরিয়ার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ ও হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইরান ইস্যুতেও নেতানিয়াহু নতুন করে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ট্রাম্পকে ব্রিফ করতে পারেন। তবে ট্রাম্প নিজেকে একজন ‘শান্তি স্থাপনকারী’ হিসেবে তুলে ধরতে আগ্রহী হওয়ায় তিনি সরাসরি বড় কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাইবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের বর্তমান চিত্র যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত, তবুও বিভিন্ন কৌশলগত ইস্যুতে তাঁদের মধ্যে দূরত্বের কিছু আলামত স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে সিরিয়া ইস্যু এবং গাজার যুদ্ধ পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য তৈরি হয়েছে। তাসত্ত্বেও মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলের জন্য অকুন্ঠ সমর্থন বজায় রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলের জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বিল পাস করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব নেতানিয়াহুর এই সফরের একটি বড় উদ্দেশ্য হলো তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে এই বার্তা দেওয়া যে, ওয়াশিংটনের সাথে তাঁর সম্পর্ক এখনো সুদৃঢ়। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করে নিজের কূটনৈতিক সাফল্য প্রমাণ করতে চান। তবে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এবং মানবাধিকার ইস্যুতে মার্কিন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা দীর্ঘমেয়াদে এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *