বরিশালের মোংলায় বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে পশুর নদীতে অনুষ্ঠিত নৌবহর অনুষ্ঠানে বক্তারা ফসিল গ্যাসের দ্রুত সম্প্রসারণ বিশ্বব্যাপী জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে সতর্ক করেছেন। তারা বলেন, গ্লোবাল সাউথের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে জ্বালানির চাহিদা বাড়ছে এবং ফসিল গ্যাসকে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে বেছে নেওয়াই ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তরের মূল উপায়।
১৯ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় মোংলার পশুর নদীতে নৌবহর উদ্বোধন করেন পশুর রিভার ওয়াটারকিপারের পরিবেশযোদ্ধা মোঃ নূর আলম শেখ। এ সময় বক্তব্য রাখেন মোংলা উপজেলা জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ হাওলাদার, ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ সেলিম হাওলাদার, পরিবেশকর্মী ফাতেমা জান্নাত, নারীনেত্রী মাসুদা পারভীন, ইয়ুথ লিডার শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ নূর আলম শেখ বলেন, ফসিল গ্যাসের সম্প্রসারণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। কয়লা ও তেলের বিকল্প হিসেবে কখনও ফসিল গ্যাস ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ইরান, কানাডা ও কাতারের মতো প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, “Stop Gas and LNG, We need Renewable Energy।”
ইয়ুথ লিডার মেহেদী হাসান বলেন, শিল্পোন্নত দেশগুলো ছাড়া গ্লোবাল সাউথের জ্বালানি চাহিদা ৮৫% বৃদ্ধি পাবে। সেই বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য ফসিল গ্যাসকে বিকল্প হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ক্রীড়া সংগঠক মো. সেলিম হোসেন বলেন, “আমরা ন্যায্য সবুজ জ্বালানি রূপান্তর চাই। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের এখনই সময়।”
পরিবেশকর্মী ফাতেমা জান্নাত বলেন, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় ৭৬৮টি গ্যাস বিদ্যুৎ প্লান্ট প্রাক নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া ১৫৩টি প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল, ৩০০টি পাইপলাইন প্রকল্প এবং ২৮৪টি আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নাধীন। এসব প্রকল্প সবুজ পৃথিবী এবং জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনকে কঠিন করে তুলছে।
উল্লেখ্য, ফসিল গ্যাস সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্লোবাল সাউথের এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকায় নানামুখী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে মোংলার পশুর নদীসহ ৯টি নদীতে নৌবহর অনুষ্ঠিত হয়েছে।
