দুদকসংস্থা ঘোষণা করেছে, বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রতারণার অভিযোগে ষাটটি নিয়োগ এজেন্সি এবং তাদের মালিক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা ষাটটি মামলা করা হবে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এজেন্সিগুলোর মালিক, চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তা।
দুদকের অভিযোগ, এসব এজেন্সি সরকার নির্ধারিত ন্যায্য ফি মানেনি এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে বহু গুণ বেশি অর্থ আদায় করেছে। এ জন্য একটি সংগঠিত চক্র গড়ে তুলে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং সেই অর্থ পাচার করা হয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় দুই লাখ ষাট হাজারের বেশি শ্রমিকের কাছ থেকে মোট চার হাজার পাঁচশো কোটি টাকার বেশি আদায় করা হয়েছে। এই টাকা অনেকেই প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছে। এ ধরনের কাজ শ্রমিকদের আর্থিক স্বাভাবিক জীবনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, চুক্তিভঙ্গ, অতিরিক্ত ফি আদায়, আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘন এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য এসব মামলা করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইন অনুসারে দণ্ড এবং প্রয়োজনীয় শাস্তির বিধান করা হবে।
এই সিদ্ধান্তকে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। বিদেশে কাজ করতে আগ্রহী শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞেরা উল্লেখ করেছেন।
