ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান তীব্র সংঘাত ও উত্তেজনা নিরসনে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের পক্ষ থেকে আসা আলোচনার প্রস্তাবকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছে সৌদি আরব। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায় যে, ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট রশাদ আল-আলিমির অনুরোধে তারা রিয়াদে একটি সর্বাত্মক সম্মেলনের আয়োজন করতে প্রস্তুত। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর সাথে বিদ্যমান বিরোধ মিটিয়ে একটি স্থায়ী ও ন্যায়সংগত সমাধানে পৌঁছানো।
বিগত কয়েক দিন ধরে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি) হাজরামাউত এবং আল-মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে তাদের সরাসরি সংঘাত শুরু হয়। এসটিসি নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি দুই বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন পর্যায় ঘোষণা করে স্বাধীনতার জন্য গণভোটের পরিকল্পনা করলে রিয়াদ বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে। এর প্রেক্ষাপটে সৌদি বিমানবাহিনী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায় এবং সরকারি বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মুকাল্লা বন্দরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
সৌদি আরব মনে করে যে ইয়েমেনের এই সংকট কেবল অস্ত্রের ভাষায় নয়, বরং ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে সংলাপের মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব। বিবৃতিতে রিয়াদ ইয়েমেনের সমস্ত দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজনৈতিক পক্ষ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের এই সম্মেলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে একটি ব্যাপকভিত্তিক রূপরেখা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে যাতে দক্ষিণ ইয়েমেনের অভিযোগগুলো নিরসন করা যায় এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষা করা সম্ভব হয়।
সংকটের এই মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল আমিরাতি সামরিক ইউনিটগুলোকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর এই সেনা প্রত্যাহার শুরু হয়। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত ইয়েমেনে দক্ষিণাঞ্চলীয় এই নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল, যা নিরসনে এখন সৌদি আরবের মধ্যস্থতা এবং রিয়াদ সম্মেলনকে একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
