ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখন ইরাকের সাদ্দাম হোসেন এবং পানামার ম্যানুয়েল নোরিয়েগার মতো বিশ্বনেতাদের তালিকায় নাম লিখিয়েছেন, যাদের সরাসরি মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত এবং আটক করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি ভোররাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে এক আকস্মিক এবং শক্তিশালী বিমান হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদুরোকে বন্দি করার ঘোষণা দেন। এই ঘটনাটি ল্যাটিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
কারাকাসের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানের গর্জন এবং একের পর এক বিস্ফোরণে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো শহর। মার্কিন কমান্ডোরা অত্যন্ত গোপনীয়তা এবং ক্ষিপ্রতার সাথে অভিযান চালিয়ে মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাদের সুরক্ষিত আস্তানা থেকে আটক করে। পরবর্তীতে ট্রাম্প জানান যে, তাদের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে তারা মাদক-সন্ত্রাসবাদ বা ‘নার্কো-টেররিজম’ সংক্রান্ত গুরুতর অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হবেন। ২০২০ সাল থেকেই মাদুরোর বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে এই অভিযোগগুলো ঝুলে ছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটন দাবি করেছে।
মাদুরোর এই পতন অনেককেই ১৯৯০ সালের পানামা অভিযানের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যখন মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিয়েগাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়েছিল। একইভাবে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর সাদ্দাম হোসেনকে একটি ভূগর্ভস্থ গর্ত থেকে আটক করার দৃশ্যও বিশ্ববাসীর স্মৃতিতে অম্লান। আল জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, মাদুরোর আটক হওয়া কেবল একজন নেতার বিদায় নয়, বরং এটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সেই আগ্রাসী মেজাজের প্রতিফলন, যা আগেও বিভিন্ন দেশে সরকার পরিবর্তনের মাধ্যমে দেখা গেছে।
এই ঘটনার পর ভেনেজুয়েলার ভেতরে এক থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির উপ-রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ এই আক্রমণকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং মাদুরোর জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মহলে এই অভিযান নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাশিয়া এবং চীনের মতো দেশগুলো একে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে, তবে মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে যে তারা অঞ্চলটিকে মাদকমুক্ত এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে এই দিনটি এক বিশাল ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে থাকবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
