লঞ্চের ধাক্কায় বাল্কহেড ডুবি: দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বুড়িগঙ্গা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চের ধাক্কায় বালুভর্তি একটি বাল্কহেড ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা যৌথ অভিযান চালিয়ে বাল্কহেডের ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে একই দিন ভোরে ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার একটি বেসরকারি ডগ ইয়ার্ডের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও কারণ

নৌপুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরিশাল থেকে ঢাকাগামী ‘সুন্দরবন-১৬’ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ভোরে ধর্মগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাটে নোঙর করে রাখা বালুভর্তি একটি বাল্কহেডকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। লঞ্চের প্রবল ধাক্কায় বাল্কহেডটির অর্ধেক অংশ তাৎক্ষণিকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার সময় বাল্কহেডের কেবিনের ভেতরে পাঁচজন শ্রমিক ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন।

উদ্ধার অভিযান ও হতাহতের তথ্য

লঞ্চের ধাক্কায় বাল্কহেডটি ডুবতে শুরু করলে ভেতরে থাকা পাঁচ শ্রমিকের সবাই নদীতে ঝাঁপ দেন। তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও দুইজন নিখোঁজ থাকেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় তিনটি বেসরকারি ডুবুরি দলও অংশ নেয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর পটুয়াখালীর বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম শাকিল (২৫) এবং ঝালকাঠির রাজাপুরের মোহাম্মদ হাসানের (২০) লাশ উদ্ধার করা হয়।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও আইনি ব্যবস্থা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত লাশগুলো নৌপুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ‘সুন্দরবন-১৬’ লঞ্চটিকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *