পাবনা ও ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ

পাবনা ও ফরিদপুর জেলার চারটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে একটি গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আসনগুলো হলো পাবনা-১, পাবনা-২, ফরিদপুর-২ এবং ফরিদপুর-৪। গত বুধবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত সরকারি গেজেট জারি করা হয়, যাতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মামুন উর রশিদ।

হাইকোর্টের নির্দেশনায় সীমানা পরিবর্তন

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তটি মূলত উচ্চ আদালতের একটি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের রায়ের ভিত্তিতে এই সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগে সীমানার এই পরিবর্তন সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পাবনা জেলার নতুন সীমানা

প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, পাবনা-১ (আসন নং ৬৮) এখন থেকে সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া পৌরসভা নিয়ে গঠিত হবে। এর পাশাপাশি বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া, নকালিয়া, নতুন ভারেঙ্গা, চাকলা ও কৈটোলা ইউনিয়নগুলোও এই আসনের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অন্যদিকে, পাবনা-২ (আসন নং ৬৯) সুজানগর উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার অবশিষ্ট অংশ নিয়ে গঠিত হবে, যেখানে বেড়া পৌরসভা এবং উপরে উল্লিখিত পাঁচটি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে না।

ফরিদপুর জেলার নতুন বিন্যাস

ফরিদপুর জেলার ক্ষেত্রে ফরিদপুর-২ (আসন নং ২১২) আসনের সীমানায় নগরকান্দা উপজেলা এবং সালথা উপজেলাকে রাখা হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুর-৪ (আসন নং ২১৪) আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা, চরভদ্রাসন উপজেলা এবং সদরপুর উপজেলা নিয়ে। সীমানার এই পুনর্বিন্যাস সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলোর প্রশাসনিক ও নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

নির্বাচনী প্রস্তুতিতে প্রভাব

জাতীয় নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের এই সীমানা পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী কৌশল নতুন করে সাজাতে হবে। আসনগুলোর ভৌগোলিক এবং জনসংখ্যাগত পরিবর্তন প্রার্থীদের ভোট ব্যাংক এবং প্রচারণার ধরনেও পরিবর্তন আনতে পারে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই এই সীমানা চূড়ান্ত করা হয়েছে যাতে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *