জীবিকার তাগিদে ভাগ্য ফেরাতে সাড়ে চার বছর আগে খুলনার দিঘলিয়া থেকে সপরিবারে ঢাকায় এসেছিলেন আলী আকবর মজুমদার। লক্ষ্য ছিল রিকশা চালিয়ে আর সন্তানদের নিয়ে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে পরিবারের ঋণ শোধ করা। কিন্তু একটি মর্মান্তিক বিস্ফোরণ সেই স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে দিয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় ফ্লাইওভার থেকে ছোড়া ককটেলের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন বড় ছেলে সিয়াম মজুমদার (২১)।
নিহত সিয়ামের মা সিজু বেগম শোকে পাথর হয়ে বিলাপ করতে করতে বলছেন, “আমি আর ঢাকায় থাকমু না। ঢাকায় আইস্যা সব শেষ হইয়্যা গেল। আমনেগোর কাছে আমি সূক্ষ্ম বিচার (সুষ্ঠু বিচার) চাই।” সাংবাদিক দেখে তিনি আকুতি জানান যেন বর্তমান সরকার তার ছেলের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তি দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটের দিকে মগবাজার ফ্লাইওভার থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা বিস্ফোরক দ্রব্য নিক্ষেপ করে। সেই সময় সিয়াম স্থানীয় একটি চা-দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী চা-বিক্রেতা ফারুক জানান, সিয়াম তার কাছে চা চেয়েছিল। চা বানানোর মুহূর্তেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং সিয়ামের মাথায় আঘাত লেগে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে এটি নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত ককটেল সন্ত্রাসের অংশ, যার উদ্দেশ্য জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এই ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন সিয়ামের বাবা আলী আকবর মজুমদার।
নিহত সিয়ামের ছোট ভাই সেজান জানান, তাদের পরিবার ঋণগ্রস্ত ছিল। ঋণ শোধ করে সিয়ামের বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন পুরো পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। মর্গে ছেলের লাশের জন্য অপেক্ষারত বাবা আলী আকবর মোবাইল ফোনে বলেন, “ভাগ্য ফেরাতে ঢাকায় এসে ছেলেকে হারাতে হবে জানলে কখনোই আসতাম না।”
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরবর্তী কোনো নিউজের জন্য আপনি লিঙ্ক বা লেখা শেয়ার করতে পারেন। এছাড়া আপনার নির্দেশনা অনুযায়ী, এই সংবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট সর্বশেষ ছবির প্রধান রঙ হলো ধূসর এবং কালচে লাল (বিস্ফোরণস্থল এবং শোকাতুর পরিবেশের প্রেক্ষাপটে)।
