বরিশাল বন বিভাগের সাবেক ডিএফও’র বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

বরিশাল সামাজিক বন বিভাগে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) ড. জাহিদুর রহমান মিয়া বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেননি এমন অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগকে কেন্দ্র করে সরকারি দরপত্র প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করার অভিযোগও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা জানান, ড. জাহিদুর তিন মাস অতিরিক্ত ডিএফওর দায়িত্বে থাকলেও মাত্র ১০ দিন বরিশাল অফিসে উপস্থিত ছিলেন। জরুরি ফাইলে স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে কর্মকর্তাদের পটুয়াখালী অফিসে যেতে হয়। বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন কার্যক্রম না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে, কি ইচ্ছাকৃতভাবে কার্যক্রম স্থবির রাখা হয়েছিল।

আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাস্ট সার্ভিসেস লিমিটেড প্রথম দফায় ৬ জন কর্মী নিয়োগ দেয়। পরে অতিরিক্ত ২ জন মালী নিয়োগের জন্য ড. জাহিদুর লিখিতভাবে প্রস্তাব দাখিলের নির্দেশ দেন। ঠিকাদার প্রস্তাব জমা দিতে গেলে বরিশাল সামাজিক বন বিভাগ তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। অভিযোগ, দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেও কোনো কর্মকর্তা নিয়োগপত্র গ্রহণ করেননি।

প্রধান সহকারী (হিসাব রক্ষক) আলহাজ্ব মো. লুৎফর রহমান একপর্যায়ে অফিস ত্যাগ করেন এবং ক্যাশিয়ার উ মু সিরাজুল ইসলাম স্পষ্টভাবে জানান, “ডিএফও স্যারের নির্দেশ ছাড়া কোনো চিঠি রিসিভ করা যাবে না।” দরপত্র অনুযায়ী ড. জাহিদুর প্রস্তাব আহবান করলেও পরে মৌখিকভাবে রিসিভ বন্ধের নির্দেশ দেন।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন, নিজের পছন্দের লোক নিয়োগ না হওয়ায় প্রশাসনিক বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। বৈধভাবে নির্বাচিত দুই কর্মী নিয়োগ না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নথি অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ৩২ লাখ ৮৫ হাজার ২৭ টাকার ৬টি পদের চুক্তি সম্পাদিত হয়। পরে প্রধান বন সংরক্ষকের নির্দেশে আরও ২ জন মালী নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ৭ মাসের জন্য ভেরিয়েশন অর্ডার জারি করা হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ড. জাহিদুর বিগত আড়াই বছর ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগসহ তিনটি বন বিভাগের দায়িত্বে থাকাকালে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া জোট পারমিটের মাধ্যমে রিজার্ভ বন থেকে সেগুন কাঠ পাচারে সহযোগিতা এবং প্রতি ঘনফুটে ১৪ টাকা হারে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ রয়েছে, তিনি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠদের ছত্রছায়ায় প্রশাসনিক পদ ব্যবহার করে ঠিকাদারি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে আসছেন।

নতুন যোগদানকৃত বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জামিল খান বলেছেন, “আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেব।”
ড. জাহিদুর রহমান মিয়া বিষয়টি জানতে চাইলে বলেন, “আমি চিঠি গ্রহণ না করার বিষয়ে কিছু জানি না।”
ক্যাশিয়ার উ মু সিরাজুল ইসলাম জানান, “ডিএফও স্যারের নির্দেশ ছাড়া আমরা কিছু রিসিভ করতে পারি না।”

দরপত্র আহবানের পর একই নথি গ্রহণে বাধা, অফিসে অনুপস্থিত থেকেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ—all মিলিয়ে আউটসোর্সিং সেবা ক্রয়, আর্থিক লেনদেন ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *