কেরালা রাজ্যে এক দলিত যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় উত্তেজিত জনতা ওই যুবককে “তুমি কি বাংলাদেশি?” বলে বারবার প্রশ্ন করেছিল। এই নৃসংস হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার এখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে মামলা করার দাবি জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে কেরালার একটি এলাকায় যেখানে ছত্তিশগড় থেকে আসা এক দলিত যুবক কাজ করতেন। স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, একটি চুরির সন্দেহে একদল লোক তাকে ঘিরে ধরে এবং তার পরিচয় জানতে চায়। তার ভাষা এবং বাহ্যিক অবয়ব দেখে হামলাকারীরা তাকে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে সন্দেহ করে। পরিবারের দাবি, যুবকটি তার ভারতীয় পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও আক্রমণকারীরা তা শুনতে চায়নি এবং তাকে নির্মমভাবে মারধর শুরু করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় ওই যুবককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনাটি কেরালাজুড়ে এবং জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার কর্মীরা একে ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ এবং ‘পরিচয়ভীতি’ বা জেনোফোবিয়ার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। নিহতের পরিবার ছত্তিশগড় সরকারের কাছেও হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে যাতে তারা ন্যায়বিচার পায়।
পুলিশ জানিয়েছে যে, এই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। কেরালা সরকার এই ঘটনায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, একজন ভারতীয় নাগরিককে স্রেফ সন্দেহের বশে এবং জাতিগত বা ভাষাগত পরিচয়ের অজুহাতে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনে গভীর ভীতির সৃষ্টি করেছে।
