‘সাদুর বউ’ হতে তুষির কঠোর সাধনা: ৬ মাস শ্যাম্পু ত্যাগ ও সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাক পরার গল্প

‘সাদুর বউ’ হতে তুষির কঠোর সাধনা: ৬ মাস শ্যাম্পু ত্যাগ ও সেকেন্ড হ্যান্ড পোশাক পরার গল্প

মেজবাউর রহমান সুমনের নতুন চলচ্চিত্র ‘রইদ’-এর ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। বিশেষ করে তার অভিনীত ‘সাদুর বউ’ চরিত্রটি দর্শকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এই রহস্যময় ও খানিকটা মানসিক ভারসাম্যহীন চরিত্রটিতে নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে তুষি যে কঠোর পরিশ্রম এবং ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে।

মানসিক রোগীদের সঙ্গে বসবাস চরিত্রটির গভীরে পৌঁছাতে ২০২৩ সাল থেকেই প্রস্তুতি শুরু করেন তুষি। ‘সাদুর বউ’ চরিত্রটি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত। এই রোগের ধরন এবং আক্রান্তদের আচরণ বুঝতে তিনি ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ঢাকা ও পাবনার বিভিন্ন মানসিক হাসপাতালে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। তুষি জানান, তিনি কেবল রোগীদের পর্যবেক্ষণই করেননি, বরং সোমা বা তন্বীর মতো রোগীদের সঙ্গে রীতিমতো বন্ধুত্ব পাতিয়েছিলেন। তাদের হাসি, কান্না, নাচ আর যন্ত্রণার গল্পগুলো খুব কাছ থেকে অনুভব করেছেন তিনি। তুষির মতে, মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া অনেক নারীর ক্ষেত্রে আসলে একটি জীবনমুখী ‘রক্ষণাত্মক কৌশল’, যাতে তারা জীবনের চরম কষ্টগুলো ভুলে থাকতে পারেন।

মাটি লেপা থেকে রোদ পোহানো পুরোদস্তুর শহুরে জীবন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য তুষি সিলেটের সীমান্ত এলাকায় শুটিং স্পটে গিয়ে দীর্ঘ সাত মাস সময় কাটিয়েছেন। সেখানে সেটের বাড়ি বানানো, মাটি লেপা কিংবা গাছ লাগানোর মতো কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করেছেন। তিনি চেয়েছেন তার শরীর যেন একজন কঠোর পরিশ্রমী গ্রামীণ নারীর মতো দেখায়। কৃত্রিম মেকআপের চেয়ে প্রকৃতির ছোঁয়ায় নিজেকে বদলে ফেলাকেই শ্রেয় মনে করেছেন এই অভিনেত্রী।

শ্যাম্পু ত্যাগ ও বিশেষ গেটআপ সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, চরিত্রের প্রয়োজনে তুষি প্রায় ছয় মাস মাথায় কোনো শ্যাম্পু ব্যবহার করেননি। চুলে ধুলোবালি ও রুক্ষতা ধরে রাখতে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া শুটিং চলাকালীন তিনি নিজের কোনো আধুনিক পোশাক স্পর্শও করেননি; বরং স্থানীয় এলাকা থেকে কেনা পুরনো বা ‘সেকেন্ড হ্যান্ড’ জামাকাপড় পরে কাটিয়েছেন মাসের পর মাস। এমনকি চেহারায় রোদে পোড়া ভাব (ট্যান) আনতে নিয়মিত সরিষার তেল মেখে রোদে বসে থাকতেন এবং পানের কষ দিয়ে দাঁতে বিশেষ দাগ তৈরি করেছিলেন।

তুষির ভাষ্যমতে, এ ধরনের চরিত্র একজন শিল্পীর জীবনে বারবার আসে না। তাই কোনো মেকআপের সাহায্য ছাড়াই ধুলো-ময়লা আর রোদে পোড়া রূপ নিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন পর্দার ‘সাদুর বউ’। তার এই অদম্য স্পৃহা আর অভিনয়ের প্রতি একাগ্রতা চলচ্চিত্র অঙ্গনে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *