বরিশাল নগরীর ওয়াপদা কলোনি ও কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী এলাকায় দেশের অন্যতম বৃহৎ বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত ইতিহাসসমৃদ্ধ এই স্থানের সংস্কার এখনও উপলক্ষে আসে নি। স্বাধীনতা অর্জনের পঞ্চান্ন বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার পুনরুদ্ধার ও সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি।
এই বধ্যভূমিটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় একটি অত্যন্ত কঠিন ইতিহাসের সাক্ষী। এখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বন্দি ছিলেন নির্যাতিত লোকজনকে রাখা, কখনও তাঁদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হতো এবং পরে তাদের মরদেহ নদীর তীরে ফেলার নির্দয় ঘটনা ঘটে। এ কারণে এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি শোকাবহ স্থান হিসেবে বিবেচিত হয় এবং দেশ মুক্তির পর থেকে এটি বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।
গত কয়েক বছর ধরে এই জায়গা সরকারের এবং স্থানীয় সমাজের নজরে থাকলেও গতবারের ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর সংস্কার লগ্ন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অনেক দর্শনার্থী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক বলছেন, ইতিহাসের এই স্মৃতি অযত্নে পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করছেন শীঘ্রই বধ্যভূমির সংস্কার ও পুনরুদ্ধার করা হোক যাতে ভবিষ্যতের প্রজন্মও এই ইতিহাস উপলব্ধি করতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগে এই বধ্যভূমির বিভিন্ন স্থাপনায় দুর্বৃত্তদের দ্বারা ভাঙচুর চালানো হয়েছিল। কিছু নির্মাণ নষ্ট হয়ে যায় এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংরক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনো ঐ স্থানে দর্শনার্থীরা নিরাপদভাবে প্রবেশ করতে পারছেন না এবং বহু জায়গা অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, বধ্যভূমি সংরক্ষণ ও সংস্কারের জন্য পরিকল্পনা রয়েছে এবং শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ঐতিহাসিক স্মৃতি স্থানকে পুনরুদ্ধার করে সকলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অভিজ্ঞতা গাঁথা বধ্যভূমি ও টর্চার সেল কমপ্লেক্সের দর্শন মানুষের মনে শক্তিশালী প্রতিফলন রেখে গেছে। তাই অনেকেই বলেন, এই স্থানের মর্যাদা ও ইতিহাসকে সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি এবং তা ভবিষ্যতের রাখঢাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
