রক্তের মাঝ দিয়ে অর্জিত আনন্দের মহান বিজয় দিবস

আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। এই দিনটি বাঙালি জাতির জন্য আনন্দ ও বেদনার এক অবিস্মরণীয় মিলন। যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন, কিন্তু নিজের চোখে স্বাধীনতার আনন্দ দেখতে পারেননি, তাদের স্মরণে আজ আমরা শ্রদ্ধা নিবেদন করি।

১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, আর একাত্তরের এই দিনে সেই স্বাধীনতার স্বপ্ন পূর্ণ হয়। বহু শতাব্দীর শোষণ, বঞ্চনা ও নির্যাতনের পর বাঙালি জাতি আত্মপরিচয় ও মুক্তির স্বার্থে অটলভাবে সংগ্রাম করে এগিয়ে এসেছিল। রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্ম নিল স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ।

আজকের দিনটি আনন্দের সঙ্গে একাত্ম বেদনারও। তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তি ও স্বাধীনতার আনন্দের পাশাপাশি লাখো মা-বোনের শোকও এই দিনে হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ঝড় ও অস্থিরতার মধ্যেও অটল বৃক্ষের মতো প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে স্বাধীনতা। স্বাধীনতার অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আজও আমাদের চেতনায় জ্বলে ওঠে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইতিহাসে সোনালী অক্ষরে লিপিবদ্ধ। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে ভারতীয় বাহিনী আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি শুরু করে। জাতিসংঘের হাইকমিশনার জন আর কেলি বাকি যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বার্তা পৌঁছানোর জন্য বেতার সংকেত ব্যবহার করেন। বিকেল চারটায় পাকিস্তানি সেনারা আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান বাঙালি জাতির দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামের চূড়ান্ত জয় হিসেবে স্বীকৃত।

স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ গঠিত হয়। লাল-সবুজ পতাকা সর্বত্র উড়তে থাকে, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিজয় বাঙালির চেতনায় স্থায়ী প্রতীক হয়ে ওঠে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিল একাত্তরের সাতই মার্চ, আর ১৬ ডিসেম্বর সেই মুক্তির শিখর অর্জিত হয়।

আজ, ৫৪ বছর পরও, স্বাধীনতার মানে ও স্বপ্ন বাস্তবে পূর্ণ হয়নি। বিজয় দিবস উদযাপনের জন্য সরকার সর্বত্র কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। জাতীয় পর্যায়ে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, জেলা ও উপজেলায় প্রদর্শনী ও বিজয়মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঢাকায় সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনি হবে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল অর্পণ করবেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে বীর শহীদদের পরিবারের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন অংশগ্রহণ করবেন।

সরকারি ও বেসরকারি সকল ভবন, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহ জাতীয় পতাকা ও আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে। দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপে রঙিন নিশান ও ব্যানার প্রদর্শিত হবে। সকল দূতাবাসেও জাতীয় পতাকা উত্তোলিত হবে। দেশের সকল মানুষের অংশগ্রহণে বিজয় দিবসের তাৎপর্য উদযাপন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *