জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পাশে ‘স্থান-কাল-পাত্র’ শীর্ষক বিশেষ স্থাপত্য প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ আর্ক সামিট-২০২৫-এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট আয়োজন করেছে এই প্রদর্শনী। এতে বাংলাদেশের খ্যাতনামা স্থপতিদের পুরস্কারপ্রাপ্ত অর্ধশতাধিক স্থাপত্য নকশা দর্শকদের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রদর্শনী গত ১১ ডিসেম্বর শুরু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। প্রদর্শনী চলবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট জানায়, প্রদর্শনীতে দেখানো প্রকল্পগুলোতে স্থাপত্য কীভাবে মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সংযুক্ত হয়, তা ফুটে উঠেছে। নগর ও গ্রাম, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার স্তরগুলো নকশার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে। ‘স্থান-কাল-পাত্র’ কেবল স্থাপত্য প্রদর্শনী নয়; এটি মানুষের সঙ্গে স্থাপত্যের সম্পর্কের পাঠ। দর্শকদের চারপাশের নির্মিত পরিবেশ নতুন দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়েছে প্রদর্শনী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য ও পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। এ ধরনের প্রদর্শনী ও বেসরকারি উদ্যোগ নগরের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাস্থই সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উর রশিদ জানান, ১১-১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আর্ক সামিট-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামিটের ধারাবাহিকতায় ঢাকার পাঁচটি স্থানে প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। তিনি উল্লেখ করেন, প্রদর্শনীতে দর্শকরা বাংলাদেশের স্থপতিদের তৈরি নকশা দেখে দেশের স্থাপত্যের সাম্প্রতিক অর্জনের পরিচয় পাবেন।
প্রদর্শনীর আহ্বায়ক দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, প্রদর্শনীর মূল থিম ‘পিপল, প্লেস, প্রেজেন্স’, যা স্থান-কাল-পাত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রদর্শনীর বড় সাফল্য। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রকৃত শক্তি মানুষ, আর স্থপতিরা সেই মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সদিচ্ছা থাকলে নগরের গণপরিসর উন্নয়নে আরও বড় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ, আর্ক সামিটের আহ্বায়ক কাজী এম আরিফ এবং অন্যান্য স্থপতিরা। অনুষ্ঠানের শেষে অতিথিরা প্রদর্শনীতে রাখা বিভিন্ন স্থাপত্য নকশা ঘুরে দেখেন।
