রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে ভয়াবহ এক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুই বছরের এক শিশু হঠাৎ করে একটি পরিত্যক্ত গভীর নলকূপে পড়ে যায়। নলকূপটির মুখ খোলা ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে এটি ব্যবহারহীন অবস্থায় পড়ে ছিল। স্থানীয়দের ধারণা, গর্তটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ফুট গভীর।
শিশুটির পরিবার দুপুরে মাঠের দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় টালরি দেখার জন্য বাবা-মা কিছুক্ষণ থামলে শিশু মায়ের কোলে থেকে নেমে পাশে হাঁটতে শুরু করে। অসাবধানতাবশত সে খোলা নলকূপের মুখে পড়ে যায়। ঘটনার সাথে সাথেই শিশুর চিৎকারে তার মা-বাবা ও আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও গর্ত অত্যন্ত সরু হওয়ায় কেউ নিচে নামতে পারেনি।
খবর পেয়ে তানোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। গর্তটি সরু হওয়ায় ভেতরে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। তাই গর্তে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে এবং পাশের মাটি কেটে শিশুটির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। মাটি নরম হওয়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে কোনোভাবে মাটি ধসে পড়ে আরও বিপদ না ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নলকূপটি অনেকদিন ধরে খোলা অবস্থায় ছিল, কিন্তু কোনো সতর্ক সাইনবোর্ড, ঢাকনা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এর আগেও এ বিষয়ে জানানো হলেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই অবহেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তারা মনে করেন।
এখন পুরো এলাকায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই শিশুটির নিরাপদ উদ্ধারের জন্য প্রার্থনা করছেন। উদ্ধারকারী দল রাতভর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা আশা করছেন শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনা সম্ভব হবে।
