ইয়েমেনে কারা নিয়ন্ত্রণ করছে

ইয়েমেন একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘর্ষ এবং রাজনৈতিক বিভেদের ফলে এখন কার্যত কয়েকটি অংশে বিভক্ত। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী দেশটির নিয়ন্ত্রণ মূলত তিনটি প্রধান গোষ্ঠীর হাতে পড়ে। উত্তর ও পশ্চিম অংশের বৃহৎ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যাদের প্রশাসনিক উপস্থিতি রাজধানী সানা এবং তার আশপাশেও সুস্পষ্ট। তারা বহু বছর ধরে এসব অঞ্চল দখল করে রেখেছে এবং নিজেরাই প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছে।

দক্ষিণের প্রায় পুরো অঞ্চল এখন Southern Transitional Council বা STC-র নিয়ন্ত্রণে। এই গোষ্ঠী দাবি করছে, তারা পূর্বের দক্ষিণ ইয়েমেনের আটটি গভর্নরেট নিয়ন্ত্রণ করছে এবং এসব এলাকায় প্রশাসন, নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, তেলসমৃদ্ধ এলাকা এবং কৌশলগত দ্বীপ, যা ভূ-রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। STC দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণের স্বশাসন বা স্বাধীনতার দাবি তুলে আসছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য এই লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এখন কার্যত সীমিত ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক উপস্থিতি অনেকাংশেই সংকুচিত হয়ে গেছে এবং মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হুথি বা STC-র মতো শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলোর কাছে নেই। ফলে দেশটি একটি অস্থিতিশীল এবং ভাঙা রাজনৈতিক কাঠামার মধ্যে অবস্থান করছে।

হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ উত্তর অংশে স্থায়ী হলেও দক্ষিণে STC-র সম্প্রসারণ ইয়েমেনের রাজনৈতিক মানচিত্রকে আরও জটিল করে তুলেছে। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শ, লক্ষ্য এবং ক্ষমতার প্রতিযোগিতা ইতিমধ্যেই সংঘর্ষের সম্ভাবনা তৈরি করছে। দক্ষিণের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের দাবি এবং উত্তরে হুথি নিয়ন্ত্রণ—এই দুই বাস্তবতা ইয়েমেনকে একটি দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থায় ফেলে দিতে পারে।

ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হতে পারে। STC যদি তাদের স্বাধীনতার দাবি আরও এগিয়ে নেয়, তাহলে ইয়েমেনে নতুন একটি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা আলোচনা করতে হবে। অন্যদিকে উত্তরে হুথি এবং দক্ষিণে STC—দুই শক্তির মধ্যকার প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হলে দেশটি আরও বেশি বিভক্ত এবং অস্থির হয়ে পড়বে। এসব পরিস্থিতি ইয়েমেনকে মানবিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তাগত দিক থেকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।

ইয়েমেনের বর্তমান নিয়ন্ত্রণভাগ একটি অস্থায়ী সমীকরণ হলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি রাজনৈতিক পুনর্গঠন বা আরও গভীর সংঘর্ষের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দেশটির ভবিষ্যৎ এখন মূলত এসব গোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত, আন্তর্জাতিক চাপ এবং জাতীয় পুনর্মিলনের সম্ভাবনার ওপর নির্ভর করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *