ভারতের পর্যটন কেন্দ্র গোয়ার একটি জনপ্রিয় নাইটক্লাবে আগুন ধরে যাওয়ার ফলে ২৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়। তাঁদের অনেকেই ছিলেন রাজ্যের বাইরে থেকে কাজ করতে আসা অভিবাসী শ্রমিক, আর কয়েকজন ছিলেন পর্যটক। এই আগুনে মৃতদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ ছিলেন যাদের জন্য এই মৌসুমটি ছিল সুখের অপেক্ষায়—কারও পরিবার ক্রিসমাসে তার প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিল, কেউ আগামী বছর বিয়ে করতে যাচ্ছিল, আবার কেউ প্রথমবারের মতো গোয়া ভ্রমণে এসে বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিল।
বির্চ বাই রোমিও লেন নাইটক্লাবটি সমুদ্রতীরের কাছেই অবস্থিত ছিল এবং আগুন লাগার সময় সেখানে অসংখ্য মানুষ জমায়েত হয়েছিল। আগুনের পর পুলিশের হাতে অন্তত চার জন গ্রেপ্তার হয়েছে, তাদের মধ্যে ক্লাবের ম্যানেজারও রয়েছেন, আর ক্লাবের মালিককে এখনও খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ আগুনের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছিল কিনা তা যাচাই করছে। এদিকে নিহতদের পরিবারগুলো শোকেই নিমজ্জিত, তাদের জন্য এ ক্ষতি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের রাঁচি থেকে গোয়া আসা ভাই বিনোদ এবং প্রদীপ মহতো কাজ করতেন একই ক্লাবে। তারা পরের বছর বিয়ে করার কথা ছিল এবং পরিবার তাদের জন্য একটি মাটি ঘরকে কংক্রিটের ঘরে রূপান্তর করছিল। কিন্তু সোমবার দুই ভাইয়ের দেহভর্তি দুটি কফিন তাদের বাড়িতে পৌঁছায়। তাঁদের ভাই ফাগু মহতো বলেন, শনিবার সন্ধ্যায় ভিডিও কলে শেষবার কথা হয়েছিল এবং তারা বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করছিল।
এমনই করুণ গল্প রয়েছে আরও বহু পরিবারে। ঝাড়খণ্ডের খুণ্টি জেলার ফুলো মুন্ডাইন তার ছেলে মোহিতের ক্রিসমাসে বাড়ি ফিরে আসার অপেক্ষায় ছিলেন। মোহিত গত বছর গোয়া গিয়ে নাইটক্লাবে ওয়েটার হিসেবে কাজ করছিল এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু আগুনে তার জীবন শেষ হয়। উত্তরাখণ্ডের একটি গ্রামেও একই মৃত্যু সংবাদে শোক নেমে আসে। মাত্র দুই মাস আগে কাজের জন্য গোয়া গিয়েছিলেন সতীশ রানা—তার পরিবার এখন গভীর আঘাতে নীরব।
কার্নাটকের বেঙ্গালুরুর কাছেও একটি পরিবার তার ২৫ বছর বয়সী ছেলে ইশাকের মৃতদেহ পেয়ে স্তব্ধ। ইশাক ছিলেন একজন ডেটা সায়েন্টিস্ট এবং বন্ধুবান্ধবসহ গোয়া সফরে গিয়েছিলেন। আগুন লাগার পর সৃষ্ট ভিড়ে তার মৃত্যু ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে থাকা আরও চার পর্যটকের মৃত্যু হয় এবং তারা 모두 দিল্লির একটি পরিবার সদস্য ছিলেন। শুধু এক নারী, ভাভনা, এই ঘটনায় বেঁচে যান।
এই দুর্ঘটনা শুধুই একটি অগ্নিকাণ্ড নয়—এটি বহু পরিবারের স্বপ্ন, প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যৎকে মুহূর্তেই ভেঙে দিয়েছে। পর্যটন-নির্ভর গোয়া আজ শোকাহত, আর নিহতদের পরিবারগুলো এখন অসীম দুঃখের মাঝেই আগুনের কারণ ও দায়ীদের বিচার অপেক্ষায়।
