EU এর কালাস: “সেইভাবে, আমেরিকা আমাদের সবচেয়ে বড় মিত্র”
ব্রাসেলস, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ — ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) রাষ্ট্রপতি উর্সুলা ভন ডার লেয়েনের প্রধান রাজনৈতিক সহকারী, এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেয়া কালাস, বলেছিলেন যে আমেরিকা তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র এবং এই সম্পর্কের গুরুত্ব কখনোই কমবে না, যদিও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইউরোপের নিরাপত্তা সম্পর্কিত কিছু নির্ধারণে পরিবর্তন আনতে চলেছে।
কালাস এক সাক্ষাৎকারে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র আমাদের জন্য সবসময়ই একটি বিশাল কৌশলগত মিত্র। যদিও নিরাপত্তা সম্পর্কিত কিছু আলোচনায় পরিবর্তন আসছে, তবুও এটি আমাদের সম্পর্ককে তেমনভাবে প্রভাবিত করবে না। আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর এবং একসাথে সমাধান খুঁজে বের করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
নিরাপত্তা সম্পর্কের পরিবর্তন
সাম্প্রতিক সময়ে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নিরাপত্তা নীতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপের কিছু দেশগুলির সুরক্ষা স্তরের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। তবে, কেয়া কালাস দাবি করেছেন যে, এ পরিবর্তন শুধুমাত্র সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের প্রতি কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তিনি বলেন, “আমরা জানি, সম্পর্ক শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাণিজ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে বিস্তৃত।”
EU এবং আমেরিকার সম্পর্কের গুরুত্ব
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকা গত কয়েক দশক ধরে একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। বিশেষ করে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর, ইউক্রেন সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে EU এবং আমেরিকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। কালাস এর মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট মন্তব্য করেন, “আমরা যদি একসঙ্গে কাজ না করি, তবে আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। আমাদের সম্পর্ক ইউরোপীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ভবিষ্যৎ সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি
কালাস আরো বলেন, “আমরা জানি যে, ইউরোপের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অপরিহার্য। আমরা আমাদের সম্পর্কের মধ্যে যে বিশ্বাস স্থাপন করেছি, তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখযোগ্য যে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকা, বিশেষত রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে, একে অপরের সহযোগিতা আরও গভীর করেছে। এমন পরিস্থিতিতে, কালাসের মন্তব্যগুলি ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্দেশ্যে আশ্বস্ত করার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপসংহার
এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী কেয়া কালাসের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকার সম্পর্কের মধ্যে সামান্য পরিবর্তন হলেও, এটি তাদের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের কোনো ক্ষতি করবে না। দুই পক্ষই একে অপরের শক্তিশালী সহযোগী হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখবে, এবং তাদের সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
