মধ্যপ্রাচ্যে বহু দশক ধরে চলমান সংঘাত ও অস্থিরতা নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন কাঠামো প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জাসিম আল থানী। তাঁর মতে, টেকসই ও বাস্তবসম্মত শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব কেবল তখনই, যখন রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষসহ (non-state actors) সকলকে আলোচনার ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
দোহায় এক আলোচনাসভায় তিনি বলেন, “যদি আপনি নন-স্টেট অ্যাক্টরদের সঙ্গে কথা না বলেন, তাহলে আপনি কোনো সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে পারবেন না।” তিনি স্পষ্টভাবে জানান, আঞ্চলিক বাস্তবতায় এমন অনেক গোষ্ঠী রয়েছে যাদের ভূমিকা উপেক্ষা করলে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অসম্পূর্ণই থেকে যায়।
হামাসের সঙ্গে যোগাযোগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা
কাতার বছরের পর বছর ধরে হামাসের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে— যার ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধেই ২০১২ সালে দোহায় হামাসের রাজনৈতিক অফিস খোলা হয়। উদ্দেশ্য ছিল গাজায় মানবিক সহায়তা, যুদ্ধবিরতি, আটক বিনিময়সহ জরুরি বিষয়গুলোতে কার্যকর মধ্যস্থতা নিশ্চিত করা।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাতারের আর্থিক সহায়তা “হামাসের জন্য নয়; বরং গাজার সাধারণ মানুষের জন্য”, এবং এ সহায়তা স্বচ্ছ প্রক্রিয়া মেনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।
আক্রমণকে ‘অনৈতিক’ উল্লেখ
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামাসের যেসব আক্রমণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে “অনৈতিক” বলে মন্তব্য করেন শেখ মোহাম্মদ। তাঁর মতে, যেকোনো ধরনের হিংসাত্মক আক্রমণ কেবলমাত্র কূটনীতি ও মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করে এবং সাধারণ মানুষের জন্য আরও দুর্ভোগ বয়ে আনে।
গাজা পুনর্গঠনে কাতারের ভূমিকা
গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও ব্যাপক ধ্বংসের বিষয়ে কাতার তার ভূমিকাকে অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কাতার মানবিক সহযোগিতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্গঠন কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে; তবে যারা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছে তাদেরই পুনর্গঠনের দায় নিতে হবে — এই প্রত্যাশাও তিনি প্রকাশ করেন।
সমন্বিত শান্তি কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা
শেখ মোহাম্মদ মনে করেন, অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি বাস্তবে যেসব গোষ্ঠী সংঘর্ষে জড়িত, তাদেরকেও আলোচনার টেবিলে আনতে হবে। অন্যথায়, যেকোনো শান্তি চুক্তি অস্থির ও অকার্যকর থেকে যাবে।
