ইরানে চলমান জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির বিরুদ্ধে জাতিসংঘকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে ‘বেআইনি হুমকি’ এবং আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করে এর তীব্র নিন্দা জানানোর অনুরোধ করেছেন।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার যদি সহিংস পথ বেছে নেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে—ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়। ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেছিলেন যে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসতে ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ (locked and loaded)। এর জবাবে রাষ্ট্রদূত ইরাভানি বলেন, অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে উসকে দেওয়া বা একে বাহানা হিসেবে ব্যবহার করে বাইরের সামরিক হস্তক্ষেপের চেষ্টা ইরানের সার্বভৌমত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তিনি আরও সতর্ক করেন যে, এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্যের ফলে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই দায়ী থাকবে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক স্থবিরতার প্রতিবাদে তেহরানসহ কোম, মাশহাদ এবং হামেদান এর মতো বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবারে তেহরানের দোকানদারদের ধর্মঘটের মাধ্যমে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এখন পর্যন্ত এই অস্থিরতায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৪৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে এবারের আন্দোলনে ইরান সরকারের সুর কিছুটা নমনীয় দেখা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জনগণের অর্থনৈতিক কষ্টের বিষয়টি স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন যে, এই পরিস্থিতির জন্য সরকারও কিছুটা দায়ী এবং তারা দ্রুত সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও বর্তমানে তুঙ্গে। এর আগে গত জুন মাসে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল, যাকে ট্রাম্প ‘অত্যন্ত সফল’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর সাথে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন যে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেয় তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর চরম আঘাত হানবে। পাল্টা জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, মার্কিন হস্তক্ষেপের ফলে পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
