প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের অনশনকারীদের ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ

ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘এলবিট সিস্টেমস’ (Elbit Systems)-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় কারাবন্দী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ (Palestine Action)-এর কর্মীরা ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মঙ্গলবার আল-জাজিরায় প্রকাশিত এক সংবাদে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: কারাবন্দী আটজন কর্মী গত ২ নভেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে অনশন শুরু করেন। তাদের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, ব্রিটিশ বিচার সচিব ডেভিড ল্যামি অনশনকারীদের শারীরিক অবস্থা ও কারাগারের পরিবেশ নিয়ে আলোচনায় বসতে অস্বীকার করায় তারা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আইনজীবীরা এই অনশনকে ১৯৮১ সালের পর ব্রিটিশ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমন্বিত অনশন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতি ও দাবি: বর্তমানে আমু গিব ৫২ দিন এবং হেবা মুরাইসি ৫১ দিন ধরে অনশনে রয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে এবং যেকোনো সময় প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনশনকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো: ১. অবিলম্বে তাদের জামিন প্রদান। ২. সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা। ৩. ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ গ্রুপকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিল করা। ৪. যুক্তরাজ্যে এলবিটের সকল কারখানা বন্ধ করা।

মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগ: বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী মাইকেল ম্যানসফিল্ড এই পরিস্থিতিতে সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বিচারের আগেই দীর্ঘ সময় (Trial-এর আগে ১ বছরের বেশি) আটকে রাখা এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত না করা মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কারাগারে অনশন নতুন কোনো বিষয় নয় এবং বন্দীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিগত বছরগুলোতে ফিলিস্তিনপন্থী কার্যক্রমের জন্য গত জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য সরকার ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’ গ্রুপটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *