দক্ষিণের নৌপথের ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার নেপথ্য কারণ

শীত মৌসুমে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথগুলো এখন যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের জন্য মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। প্রধানত তিনটি প্রাকৃতিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এই ঝুঁকি বাড়ছে:

১. ঘন কুয়াশা ও নাব্যতা সংকট বর্তমানে দক্ষিণাঞ্চলের ৩১টি নৌপথের মধ্যে ২২টিতেই পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এর সাথে যোগ হয়েছে হিমালয় থেকে আসা ঘন কুয়াশা, যা দৃষ্টিসীমা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনে। গত ২৫ ডিসেম্বর মেঘনা নদীতে কুয়াশার কারণেই এমভি জাকির সম্রাট-৩ এবং অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন।

২. সংকেত ও অবকাঠামোর অভাব দীর্ঘ এই নৌপথের অনেক স্থানেই প্রয়োজনীয় সংকেতবাতি (বিকন লাইট), ভাসমান বয়া বা মার্কার নেই। যে অল্প কিছু বয়া আছে, সেগুলোর অনেকটিতে বাতি জ্বলে না। ফলে রাতে বা কুয়াশায় চালকেরা পথের দিশা হারিয়ে ফেলছেন এবং ডুবোচরে আটকা পড়ছেন অথবা অন্য নৌযানের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছেন।

৩. অবৈধ বাল্কহেড ও মানবসৃষ্ট ত্রুটি নদীতে যত্রতত্র নোঙর করে রাখা বালুবাহী বাল্কহেডগুলো রাতের বেলা দৃশ্যমান হয় না, যা লঞ্চের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া চালকদের অদক্ষতা এবং আধুনিক রাডার বা জিপিএস প্রযুক্তির অভাবও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।

বিআইডব্লিউটিএ-এর পদক্ষেপ (ডিসেম্বর ২০২৫) সর্বশেষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সদরঘাট থেকে চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের সব যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা কুয়াশা না কাটা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এছাড়া এডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের রুট পারমিট বাতিল এবং চারজন স্টাফকে আটক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *