বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধানকে মিসরাতায় দাফন

বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধানকে মিসরাতায় দাফন

তুরস্কে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত লিবিয়ার সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আলী আহমেদ আল-হাদ্দাদকে তাঁর নিজ শহর মিসরাতায় পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। রবিবার অনুষ্ঠিত এই জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দ্বীবাহসহ উর্ধ্বতন সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে লিবিয়াজুড়ে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট গত মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই লিবিয়ার এই প্রতিনিধি দলকে বহনকারী ব্যক্তিগত জেট বিমানটি (ফ্যালকন ৫০) বিধ্বস্ত হয়। লিবিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার লক্ষে একটি সফল মিশন শেষে তাঁরা ত্রিপোলির পথে রওনা হয়েছিলেন। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করার সময় বিমানটি আঙ্কারার দক্ষিণে হায়মানা জেলার একটি পাহাড়ি এলাকায় আছড়ে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদসহ লিবিয়ার মোট পাঁচজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং বিমানের তিন জন ক্রু সদস্য নিহত হন।

মরদেহ প্রত্যাবর্তন ও সম্মাননা শনিবার তুরস্কের আঙ্কারায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মরদেহগুলো লিবিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়। ত্রিপোলি বিমানবন্দরে লিবিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ আল-মেনফি এবং প্রধানমন্ত্রী দ্বীবাহ আনুষ্ঠানিকভাবে কফিনগুলো গ্রহণ করেন। সেনাপ্রধানের অসামান্য সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল তাঁকে মরণোত্তর ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করেছে। এরপর তাঁর কফিনটি নিজ শহর মিসরাতায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ তাঁদের প্রিয় নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

লিবিয়ার রাজনীতিতে আল-হাদ্দাদের ভূমিকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আল-হাদ্দাদ লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক বাহিনীর প্রধান ছিলেন। লিবিয়ার বিভক্ত সামরিক বাহিনীকে একত্রিত করার জন্য জাতিসংঘ মধ্যস্থতাকৃত ‘৫+৫ জয়েন্ট মিলিটারি কমিশন’-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে ত্রিপোলি রক্ষায় তাঁর সাহসী ভূমিকা এবং ২০২০ সালের অস্ত্রবিরতি চুক্তিতে তাঁর অবদান লিবিয়ার স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। তাঁর অকাল মৃত্যু লিবিয়ার ঐক্য প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ লিবিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দ্বীবাহ এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। লিবিয়ার একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে আঙ্কারায় তুর্কি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। ইতিমধ্যে বিমানের ‘ব্ল্যাক বক্স’ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এটি আরও উন্নত বিশ্লেষণের জন্য একটি নিরপেক্ষ তৃতীয় দেশে পাঠানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে লিবিয়ার উপ-সেনাপ্রধান সালাহ আল-নামরুশকে ভারপ্রাপ্ত সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *